শিরোনাম :

রোহিঙ্গাদের বুদ্ধি দিচ্ছে মোল্লারা, যেন ফেরত না যায়


বৃহস্পতিবার, ৫ জুলাই ২০১৮, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রোহিঙ্গাদের বুদ্ধি দিচ্ছে মোল্লারা, যেন ফেরত না যায়

ঢাকা : বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা যেন মিয়ানমারে ফেরত না যায় সেজন্য মোল্লারা ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এ অভিযোগ তোলেন তিনি।

তসলিমা নাসরিন লেখেন, ধার্মিকদের নিয়ে মুশকিল, তারা পৃথিবীর সব জায়গা দখল করে নিতে চায়। সব সরকারকে তাদের প্রচারক বানাতে চায়, সব প্রতিষ্ঠানকে তাদের সমর্থক করতে চায়, সব মানুষকে বিশ্বাস করাতে চায় সেই রূপকথায়, যে রূপকথায় তারা নিজেরা বিশ্বাস করে।

তিনি আরও লেখেন, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার মসজিদ মাদ্রাসা বানানো হয়েছে। রাতে রাতে মোল্লারা ওয়াজ শোনায় রোহিঙ্গাদের, বুদ্ধি দেয়, বার্মা তাদের ফেরত নিতে চাইলেও যেন তারা ফেরত না যায়। এও এক ষড়যন্ত্র, ধর্ম দিয়ে সমাজ ছেয়ে ফেলার ষড়যন্ত্র। রোহিঙ্গা শিশুদের মগজ ধোলাই চলছে। এরাই তো ভবিষ্যতের জিহাদি।

পোস্টের শুরুতে ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশি এই লেখিকা বলেন, কলকাতার একাডেমি অব ফাইন আর্টস প্রাঙ্গনে একটি গাছ তলায় দুটো পাথর বসিয়ে গেছে কারা যেন, কারা যেন তারপর ওই পাথর দুটোয় সিঁদুর পরিয়েছে, মালা পরিয়েছে আর ফুল পাতা ছড়িয়ে গেছে। এসবের মানে, পাথর দুটো পাথর নয়, পাথর দুটো ভগবান। মুশকিল হলো, সিঁদুর লেপা পাথরকে যে কেউ এখন সরিয়ে দিতে পারে না। সরিয়ে দিলে ধার্মিকেরা ছুটে এসে মারধর করবে। কেউ নাকি ওই পাথরদুটোকে লাথি মেরে সরাতে চেয়েছিল, তাতেই এক দল তেড়ে এসেছে, শিব ঠাকুরকে লাথি মেরেছে, এত বড় স্পর্ধা!

অনেকে বলছেন, প্রগতিশীলদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে, মুক্তচিন্তকদের মত বিনিময়ের জায়গায় মন্দির গড়ার ষড়যন্ত্র চলছে। মন্দির গড়ে উঠলে, মুশকিল হলো, এলাকাটিতে সংস্কৃতি চর্চার বদলে ধর্ম চর্চাই প্রাধান্য পাবে। ধর্মবাদিরা ধর্মকে সংস্কৃতি করতে চায়, সংস্কৃতিকে ধর্ম করতে চায় না। এই প্রশ্ন তো আসেই, মন্দির গড়ার জন্য একাডেমি চত্বরের দরকার হয় কেন? পুজো করার জায়গার কি অভাব কলকাতায়? শত শত মন্দির তো আছেই পুজোর জন্য! গোঁড়ামোর বিরুদ্ধে যেখান থেকে মিছিল বের হয়, সেখানে গোঁড়ামোর পাথর রেখে এলেই প্রতিবাদের কন্ঠ বুজে যাবে, তাই তো! স্ট্যাটাসের একেবারে শেষে তিনি লেখেন, ধর্মের নোংরা রাজনীতি থেকে শুধু নিজেদের বাঁচালেই চলবে না, সমাজকেও বাঁচাতে হবে, রাষ্ট্রকে তো বাঁচাতে হবেই।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন