শিরোনাম :

বড়পুকুরিয়া খনির সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি তদন্ত দল


বুধবার, ১ আগস্ট ২০১৮, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বড়পুকুরিয়া খনির সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি তদন্ত দল

বড়পুকুরিয়া: বড়পুকুরিয়া খনির উত্তোলিত কয়লা উধাওয়ের ঘটনা তদন্তে গঠিত সরকারের উচ্চস্তরের পর্যবেক্ষক দলও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পায়নি বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির (বিসিএমসিএল) কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। খনিমুখের প্রাঙ্গণে (কোল ইয়ার্ড) কয়লার প্রকৃত মজুদ নিরূপন না করেই শুধু উত্পাদন ও সরবরাহের গাণিতিক হিসাব দেখিয়েছে বলে দাবি করে কোম্পানিটি।

গত ২৭ জুলাই জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, বিদ্যুত্ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহ, পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এবং সংলগ্ন তাপ বিদ্যুেকন্দ্র পরিদর্শন করেন। কয়লা মজুদ রাখার প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে কয়লার ঘাটতি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের পরিদর্শনকালীন পর্যবেক্ষণচিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে গত সোমবার চিঠি পাঠিয়েছে বিসিএমসিএল-এর কর্তৃপক্ষীয় সংস্থা পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, কয়লার পর্যাপ্ত মজুদ না থাকার পরও তাপবিদ্যুেকন্দ্রে আগস্ট পর্যন্ত সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়েছিল বিসিএমসিএল। কয়লার মজুদ ও সরবরাহ সম্পর্কে তথ্যে ভিন্নতা এবং অস্পষ্টতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বিসিএমসিএল’র উপস্থিত কর্মকর্তারা ‘সন্তোষজনক’ উত্তর দিতে পারেননি।

বিসিএমসিএলের কর্মকর্তাদের দাবি, কোল ইয়ার্ড কখনও সম্পূর্ণ খালি হয়নি বিধায় মজুদ কয়লার পরিমাপ করা হয়নি। দৃশ্যমান কয়লার পরিমাণকে গাণিতিক হিসাবে মজুদ কয়লা বিবেচনা করা হত। ইয়ার্ডের ১৭ একর পরিমাণ জায়গায় ২-৩ ফুট পুরুত্বের কয়লার স্তর বিবেচনায় নিয়ে কয়লা সরবরাহের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছিল বিদ্যুত্ কেন্দ্রকে। কিন্তু ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন মজুদ রাখার ফলে কয়লার বিভিন্ন ধরণের সিস্টেম লস হয়েছে। এ লসের মধ্যে রয়েছে স্পনটেনিয়াস কম্বাসসন,/ অক্সিডেশন, বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাওয়া, বাতাসের মাধ্যমে ফাইন আর্টিকেল ও ডাস্ট উড়ে যাওয়া এবং ভূমির সাথে ইয়ার্ডের নিম্ন স্তরের কয়লার মিশ্রন।

কয়লা মজুদ প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন

কোল ইয়ার্ডে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি গেট রয়েছে। এর চারদিকে ৮ ফুট উচ্চতার সীমানা দেয়াল। তারও উপরে ৩ ফুট উচ্চতার কাঁটাতারের বেষ্টনি রয়েছে। ফটক ও চারদিকে ৫টি ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রহরীরা তিনটি শিফটে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া প্রতিটি টাওয়ারে সিসি টিভি ক্যামেরাও রয়েছে। রাতে ৫ সদস্যের আলাদা পরিদর্শন দল কোল ইয়ার্ডসহ সমগ্র খনি এলাকা নজরদারিতে রাখেন। কোম্পানির বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের আদেশ প্রদানের পরই কোল ইয়ার্ডে ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন