শিরোনাম :

আ'লীগের ৭২ মন্ত্রী-এমপি যাদের কপাল পুড়ছে


মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:০৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

আ'লীগের ৭২ মন্ত্রী-এমপি যাদের কপাল পুড়ছে

ওলিউর রহমান পলাশ,

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের প্রায় ৭২ জন বর্তমান মন্ত্রী, এমপি ও নেতার কপাল পুড়ছে। তাদের জায়গায় ত্যাগী নবীন নেতাদের সুযোগ দিতে যাচ্ছে দলটি।

আওয়ামী লীগ সূত্র দাবি করেছে, আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশ নেয় তবে মনোনয়ন তালিকা হবে এক। আর বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে তালিকা হবে আরেক। তবে যে তালিকাই হোক, দুই তালিকা থেকেই কিছু ‘কমন’ নাম বাদ পড়তে পারে। সে সংখ্যাও নেহাত কম নয়। প্রায় ৫০। বলা হচ্ছে, যেসব মন্ত্রী নিজ মন্ত্রণালয়েই ব্যর্থ, আর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারকে বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে, কিংবা কখনো কখনো সরকার এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে সেসব মন্ত্রী মনোনয়নের তালিকা থেকেই বাদ পড়বেন। বাদ পড়বেন তারাও, যাদের পদত্যাগের দাবিতে কোনো না কোনো আন্দোলন হয়েছে এবং সেসব আন্দোলনে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। সেসব এমপিও বাতিলের খাতায় নাম লেখাবেন। যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মাদক, চাঁদাবাজি, মাস্তানির মতো ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এ নিয়ে সরকারকে সমালোচনায় পড়তে হয়েছে তারা তো বাদ পড়বেনই।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এক বছর আগেই ১৫১ জনের দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি নানা জরিপের মাধ্যমে এই ১৫১ জনের তালিকা প্রস্তুত করেছে আওয়ামী লীগ। এ তালিকা চূড়ান্ত করার পর দলের হাইকমান্ড থেকে তালিকাভুক্ত নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণা এবং জনসংযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সূত্রটি নিশ্চিত করেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশেই ২০০ আসনে প্রার্থী জরিপ হয়েছে। সেখান থেকে চূড়ান্ত হয়েছে ১৫১ জনের নাম। এ তালিকাটি গত বছরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সে তালিকায় তরুণদের আধিক্য বেশি।

আওয়ামী লীগ সূত্রটি জানিয়েছে, ১৫১ জনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ছাড়াও ৭২ জন বর্তমান মন্ত্রী-এমপির তালিকা করা হয়েছে, যে তালিকার নামগুলো মনোনয়ন থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। গত বছরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ তালিকা চলে আসে। তালিকার নামগুলো হলো- আব্দুল মান্নান (বগুড়া-১), মো. হাবিবর রহমান (বগুড়া-৫), মোহা. গোলাম রাব্বানী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১), মো. শহীদুজ্জামান সরকার (নওগাঁ-২), মো. শফিকুল ইসলাম শিমুল (নাটোর-২), গাজী ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলন (সিরাজগঞ্জ-৩), আ. মজিদ মণ্ডল (সিরাজগঞ্জ-৫), মো. গোলাম ফারুক খন্দ. প্রিন্স (পাবনা-৫), ফরহাদ হোসেন (মেহেরপুর-১), আবদুর রউফ (কুষ্টিয়া-৪), সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার (ছেলুন) (চুয়াডাংগা-১), মো. নবী নেওয়াজ (ঝিনাইদহ-৩), মো. আনোয়ারুল আজীম (আনার) (ঝিনাইদহ-৪), শেখ আফিল উদ্দিন (যশোর-১), রণজিত কুমার রায় (যশোর-৪), এ টি এম ?আব্দুল ওয়াহাব (মাগুরা-১), মো. কবিরুল হক (নড়াইল-১), মো. মোজাম্মেল হোসেন (বাগেরহাট-৪), মুহাম্মদ মিজানুর রহমান (খুলনা-২), মীর মোস্তাক আহমেদ রবি (সাতক্ষীরা-২), শওকত হাচানুর রহমান (রিমন) (বরগুনা-২), মো. মাহবুবুর রহমান (পটুয়াখালী-৪), আলী আজম (ভোলা-২), তালুকদার মো. ইউনুস (বরিশাল-২), বেগম জেবুন্নেছা আফরোজ (বরিশাল-৫), বজলুল হক হারুন (ঝালকাঠি-১), অনুপম শাহজাহান জয় (টাঙ্গাইল-৮), মো. ফরিদুল হক খান (জামালপুর-২), এ. কে. এম. ফজলুল হক (শেরপুর-৩), জুয়েল আরেং (ময়মনসিংহ-১), নাজিম উদ্দিন আহমেদ (ময়মনসিংহ-৩), মো. মোসলেম উদ্দিন (ময়মনসিংহ-৬), মোহাম্মদ আমানউল্লাহ (ময়মনসিংহ-১১), রেবেকা মোমিন (নেত্রকোনা-৪), মো. সোহরাব উদ্দিন (কিশোরগঞ্জ-২), মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ (ঢাকা-১৬), মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (নরসিংদী-১), বি, এম মোজাম্মেল হক (শরীয়তপুর-১), মোয়াজ্জেম হোসেন রতন (সুনামগঞ্জ-১), মুহিবুর রহমান মানিক (সুনামগঞ্জ-৫), মো. আব্দুল মজিদ খান (হবিগঞ্জ-২), অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ (কুমিল্লা-৭), মো. তাজুল ইসলাম (কুমিল্লা-৯), বেগম আয়েশা ফেরদাউস (নোয়াখালী-৬), এ. কে. এম শাহজাহান কামাল (লক্ষ্মীপুর-৩), মো. আবদুল্লাহ (লক্ষ্মীপুর-৪), মাহফুজুর রহমান (চট্টগ্রাম-৩), দিদারুল আলম (চট্টগ্রাম-৪), আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন (চট্টগ্রাম-১৫) ও আশেক উল্লাহ রফিক (কক্সবাজার-২)।

আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রটি বলছে, যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে তবে নিশ্চিত হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সে বিষয়টি মাথায় রেখে আওয়ামী লীগ সে প্রার্থীদেরই বেছে নেবে যারা যে কোনো মূল্যে জিতে আসতে পারবে। এ ক্ষেত্রে নানা বিতর্ক, সমালোচনা বা অভিযোগ-অনুযোগ থাকে পুরনো নেতা বা প্রার্থীদের ব্যাপারে। যেটা নতুন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে একেবারেই কম। উপরন্তু ১৮ থেকে ৪০ বছরের ভোটার সংখ্যায় বেশি হওয়ায় তাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তরুণ প্রার্থীরা। সে হিসাব মাথায় রেখেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেবে। আবার অনেক তরুণ সম্ভাব্য প্রার্থী গত কয়েক বছরে এতই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে যে তাদের কারণে দলের ইমেজও কোথাও কোথাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সেসব ক্ষেত্রে এসব বিতর্কিত তরুণ বাদের খাতায় নাম লেখাবে।
প্রার্থী তালিকার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আমরা দলের মনোনয়ন প্রার্থীদের তালিকা প্রায় প্রস্তুত করে ফেলেছি। তফসিল ঘোষণার পরেই চূড়ান্ত হবে কারা মনোনীত হচ্ছেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন