শিরোনাম :

শিবগঞ্জ আ'লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশ


বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:২০ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

শিবগঞ্জ আ'লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশ

ওলিউর রহমান পলাশ:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে হতাশ হয়েছেন। 'আ.লীগে ৬৭ প্রার্থী চূড়ান্ত' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন বুধবার প্রকাশ করে সংবাদপত্রটি।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, 'একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের সার্বিক প্রস্তুতির কাজ গুছিয়ে এনেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, তাতে কাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে—এসব বিষয়ে অবস্থান চূড়ান্ত করেছে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়। নির্বাচনে শতাধিক আসনের জন্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীও চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ওই সব আসনে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠ গোছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'

চাঁপাইনবাবগঞ্জ - ১ শিবগঞ্জ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকায় ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের নাম প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে করে শিবগঞ্জ উপজেলাজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা বিরাজ করছে। ২০০৮ সালে এই আসনটি জামায়াত ও বিএনপির কবল থেকে বিপুল ভোটের মাধ্যমে উদ্ধার করে এনেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম এডিসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মোহাম্মদ এনামুল হক।

এই আসনটিতে ১৯৯৬ সালে আ'লীগের প্রার্থী কাইউম রেজা চৌধুরী ভোট পায় প্রায় ২৮ হাজার, জামায়াত প্রায় ৬২ হাজার ও বিএনপি প্রায় ৬৮ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়।

২০০১ সালে প্রথম মনোনয়ন পেয়ে আ'লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক প্রায় ৮৬ হাজার ভোট পান। জামায়াত-বিএনপি জোটের প্রার্থী প্রায় ৯৩ হাজার ভোট পেয়ে জয়লাভ করে।

২০০৮ সালে আ'লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ভোট পেয়ে জামায়াত-বিএনপি জোট প্রার্থীকে পরাজিত করেন। এসময় জামায়াত-বিএনপি জোট পায় প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ভোট।

শ্যামপুর ইউনিয়ন আ'লীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান ভোদন বলেন, ২০০১ সালে চাকরী থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আ'লীগে যোগদান করেন এবং নিরলসভাবে নিজেকে জনসেবায় নিযুক্ত করেন। একজন নিরহংকারী,মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজকর্মী হিসেবে তিনি নিজ এলাকায় ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। তাঁর প্রচেস্টায় এলাকার বহু শিক্ষিত বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। নারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নেও তিনি কাজ করছেন। নারী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে তিনি নিজ এলাকায় একটি উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বিগত ১৮ বছর ধরে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আ'লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন। ২০০৫ সালে তিনি জেলা আ'লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় দলকে সংগঠিত করেন এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

তিনি আরো বলেন, তাঁর নেতৃত্বে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই আ'লীগ জয় লাভ করে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোহাম্মদ এনামুল হক চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ৩১ জুলাই ২০০৯ বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরও সাধারণ মানুষ সহজে তাঁর সাথে নিজের সুখ-দুঃখের কথা বলতে পারেন। এছাড়াও ব্যাপক উন্নয়ন করে এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আ'লীগের একাধিক নেতা বলেন, ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের পিতা ডা. মঈনুদ্দীন আহমেদ (মন্টু ডাক্তার) ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে হুইপ হন। এরপরই আ'লীগের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে যায়। ফলে শিবগঞ্জ আসনটি বিএনপির দখলে চলে যায়।

ভোটের পরিসংখ্যান ও তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক কাঠামো যার হাত দিয়ে এতো দৃঢ় হয়েছে তাকে উপেক্ষা করে ডা. শিমুল (ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল)-এর নাম সংবাদমাধ্যমে উঠে আসায় আমরা হতাশ। তবে দলের মাননীয় নেত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর আমাদের বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন