শিরোনাম :

বঙ্গবন্ধুর প্রথম এডিসি এনামুল হক


বুধবার, ৩ অক্টোবর ২০১৮, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বঙ্গবন্ধুর প্রথম এডিসি এনামুল হক

চাঁপাইনবাবঞ্জ: রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম এডিসি ছিলেন এনামুল হক। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ২০০১ সালে সেনাবাহিনীতে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে থাকা অবস্থায় অবসর নেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অংশ নেন জাতীয় নির্বাচনে। প্রথমবার সফল না হলেও ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পান বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর। কিন্তু অসুস্থ্যতার কারণে গত সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।

তবে তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ্য। সপ্তাহের অধিকাংশ দিন থাকছেন নির্বাচনী এলাকায়। মানুষের বাড়ি বাড়ি হেঁটে যাচ্ছেন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান তিনি।

এনামুল হক ১৯৪৭ সালে ১০ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোজাহার হোসেন বিশ্বাস। মাতা ফেরদৌস মহল। শিবগঞ্জের মনাকষা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে এসএসসি পাশ করেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন ১৯৬৪ সালে। এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হন। ১৯৬৮ সালে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিভাগ থেকে পাস করে ১৯৬৯ সালে সেনাবাহিনীর ক্যাডেট অফিসার হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। এরপর সাত নম্বর সেক্টরে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর প্রথম এডিসি হন এনামুল হক। সেনাবাহিনীর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল থাকা অবস্থায় ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০১ সালে সেনাবাহিনীর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল পদ থেকে অবসর নেন।

শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০০১ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন। তবে বিএনপি-জামায়াতের কাছে পরাজিত হন। এরপর ২০০৮ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের পর এই আসন থেকে তিনিই প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে নাম লেখান। এর নয় মাস পর বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও ছিলেন। শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় জেলা আ'লীগের সভাপতি থাকাকালে তাঁর নেতৃত্বে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই আ'লীগ জয় লাভ করে।

এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল হক বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শিবগঞ্জে তেমন উন্নয়ন কাজ হয়নি। এমপি ও মন্ত্রী থাকাকালীন এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, রাস্তঘাট, ব্রিজ কালভাট নির্মাণ, স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নিমার্ণ, শিক্ষার হার বৃদ্ধি করেছি।’

এবার মনোনয়ন পাবার ক্ষেত্রে শতভাগ আশাবাদী উল্লেখ করে এনামুল হক বলেন, ‘আমি যে উন্নয়ন করেছি, জনগণ এখনো মনে রেখেছে। জনমত জরিপে মনোনয়ন দেয়া হলে মনোনয়ন পাবার বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী।’

সাবেক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আরো বলেন, ‘শিবগঞ্জ এন্ট্রি আওয়ামী লীগ এলাকা। ১৯৭৩ সালের পর ২০০৮ সালে সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগের এমপি নির্বাচিত হয়েছি। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চেয়ে জয়ী হয়েছিলাম। এবারো এই আসনটি হারাতে চাই না। যেভাবেই হোক আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করবো।’

মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করা হবে জানিয়ে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, দলের প্রবীণ নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের পাশাপাশি তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই সমাজ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। এখন সমাজকে দেবার পালা। মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন