শিরোনাম :

দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের


বুধবার, ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:১৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের

নওগাঁ: চলছে দেশের প্রধান ফসল ইরি-বোরো মৌসুমের ধান রোপনের ধুম। এ নিয়ে নওগাঁর রাণীনগরের কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকদের কেউ জমি তৈরি করছেন আবার কেউ বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলছেন। এখন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।

এরইমধ্যে উপজেলার কৃষকরা আমন ধান ও সরিষা ঘরে তুলেছেন। এখন প্রধান ফসল ইরি-বোরো চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রতিটি মাঠেই এখন একই চিত্র।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবরাহ, সারের কোন সংকট না থাকা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান রোপনের জন্য জমি তৈরি করতে তেমন একটা বেগ পেতে হচ্ছে না তাদের। এছাড়া এবার শীতে বীজতলার তেমন কোন ক্ষতি না হওয়ায় ধানের চারার কোন সংকট নেই। সবকিছুই বর্তমানে কৃষকের হাতের নাগালে। তাই উপজেলার প্রতিটি মাঠে মাঠে চলছে শুধু ইরি-বোরো ধান রোপনের মহোৎসব। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠের কাঁদা-জলে ভিজে ধানের চারা রোপনের কার্যক্রম চালাচ্ছে কৃষকরা। বর্তমানে উপজেলার মাঠগুলো এখন কৃষকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে।

কৃষি অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে সূত্রটি বলছে, গত বছর বন্যা না হওয়ার কারণে অধিকাংশ খাল ও বিল শুকিয়ে গেছে যেগুলোতে কৃষকরা ধান রোপন করতে পারবেন। বর্তমানে উপজেলার ১২শতাংশ জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে আর কয়েক দিনের মধ্যেই উপজেলার সবগুলো জমিতে ধান রোপন সম্পন্ন হয়ে যাবে। এবার কৃষকরা জিরাশাইল, ব্রিধান-২৯,৫৮,৬৩,৭৪ এবং কিছু স্থানীয় জাতের ধান রোপন করছেন।

উত্তর রাজাপুর গ্রামের কৃষক কলিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে সবকিছুই তাদের হাতের নাগালে রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ যদি পুরো মৌসুমে পর্যাপ্ত পাওয়া যায় তাহলে তাদের জমিতে সেচ দিতে কোনো সমস্যা হবে না। আর জমিতে সেচ, সার ও বালাইনাশক ঠিক মতো দিতে পারলে অবশ্যই ফলন বাম্পার হবে।

খট্টেশ্বর গ্রামের কালীপদ সেন বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার আবহাওয়া ভাল থাকায় তাদের এলাকার বীজতলাগুলো কোল্ড ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত হয়নি। এজন্য বোরো চারা অনেকটাই সহজলভ্য ও সতেজ হয়েছে। তাই ধান রোপনের জন্য চারা নিয়ে কোনো চিন্তা নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে উপজেলার কৃষকদের সব সময় ইরি-বোরো ধান রোপনের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত বছরের তুলনায় রবি ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশে বর্তমানে সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। সব কিছুই কৃষকের হাতের নাগালে রয়েছে। তাই কৃষকরা যদি এই মৌসুমে তাদের দেওয়া নির্দেশনাগুলো মেনে ইরি-বোরো চাষ করে এবং কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা না দেয় তাহলে এবার ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন