শিরোনাম :

শেষ হাসি কে হাসবে ভারত নাকি পাকিস্তান?


রবিবার, ১৮ জুন ২০১৭, ০২:৪৬ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

শেষ হাসি কে হাসবে ভারত নাকি পাকিস্তান?

ডেস্ক প্রতিবেদন: আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরের ফাইনালে আজ শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামবে ভারত ও পাকিস্তান। ভারত শিরোপাধারী হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে খেলতে নামছে। অপরদিকে পাকিস্তান এই প্রথম আইসিসির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এ আসরের শিরোপা লড়াইয়ে যোগ দিল।

ভারতের সাথে আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে বিপক্ষ হিসেবে পাকিস্তান খেলতে যাচ্ছে প্রায় ১০ বছর পর। তাই এ খেলাটিকে ঘিরে ক্রিকেট দুনিয়ায় সাজ সাজ রব। আর তা এতটাই যে টেলিভিশন সম্প্রচারে বিজ্ঞাপনের দর পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার আজকের ফাইনালে শেষ হাসি যেই হাসুক, দুদলের এই দ্বৈরথে আগাম আনন্দিত ক্রিকেটের বিশ্ব সংস্থা আইসিসির বাণিজ্যিক বিভাগ। কারণ এটা ক্রীড়ামোদীদের চেয়েও অনেক বেশি স্বপ্নের ফাইনাল আইসিসি ও তাদের স্বত্ব কেনা শরিকদের পাশাপাশি বাজিকরদের কাছেও। ধারণা করা হচ্ছে, দুনিয়া জুড়ে টেলিভিশনের সামনে ১০০ কোটি মানুষ খেলাটি দেখবে।

পাকিস্তান এবারের আসরে ফেভারিট হিসেবে শুরু না করেও শেষ পর্যন্তু কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়ায় পুনরুজ্জীবিত হয়েই শিরোপা লড়াইয়ে যোগ দেয়। তারপরও স্বাগতিক ইংল্যান্ডের ওভালে আজকের ফাইনালে বোদ্ধারা এগিয়ে রাখছেন ভারতকেই। বিরাট কোহলির এ দলটি ব্যাটিং বোলিং দুই বিভাগেই পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বড় জোর তাদের বোলিংকে কিছুটা গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাও যদি ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমির খেলেন। পাকিস্তান দল জানিয়েছে ফাস্ট বোলারটি খেলবেন।

মাঠের লড়াইয়ে ভারতের ব্যাটিংয়ের সাথে পাকিস্তানের বোলিংয়ের মোকাবিলা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভারতের শীর্ষ চার ব্যাটসম্যানের সাথে। শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা তার কলামে লিখেছেন, ‘আমি নিজেও ভাবিনি দুদল ফাইনালে মুখোমুখি হবে। তার মানে এই নয় যে তারা এ যোগ্যতা রাখে না। উভয় দলই কিছু ব্যতিক্রমী ক্রিকেট খেলেছে, কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়েছিল ভালভাবেই। এ ছাড়াও উভয়েই বাজে হার থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। ’

তারপরও বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম মেধাবী মস্তিষ্ক সাঙ্গাকারার মতে, ভারত অনেক বেশি আত্মপ্রত্যয়ী থাকবে। কারণ তারাই পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অনেক বেশি ধারাবাহিকতা দেখিয়ে অনেক উঁচুমানের ক্রিকেট খেলেছে।

সরফরাজ আহমেদের পাকিস্তান দল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুই করেছিল ভারতের কাছে বাজেভাবে হেরে। তবে দলটির সুবিধা হলো যখন ঘুরে দাঁড়ায় সেসময় তারা অমিত শক্তির আধার হয়ে উঠে। যেমনটি দেখা গিয়েছিল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে।

ইংল্যান্ডে মাঠগুলো সম্পর্কে ব্যাপক অভিজ্ঞতা থাকা সাঙ্গাকারার মতে, ওভালের কন্ডিশন হবে দারুণ। পিচ ব্যাটসম্যানদেরই আনুকূল্য দেবে। তার আরো মত, টসে জিতে উভয় দলই বোলিং নিতে চাইবে।

আইসিসির চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল দেখতে মুখিয়ে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। ১০ বছর পর আইসিসির কোনও টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির লড়াইয়ে উত্তেজনাকর ফাইনাল মঞ্চায়িত হয়েছে অনেক, তবে নিঃসন্দেহে বলে দেওয়া যায় ম্যাচ শুরুর আগে এমন উত্তেজনা আগে কখনও ছড়ায়নি।

ওভালে রোমাঞ্চের ফাইনাল বাজিকরদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। মোটা অঙ্কের টাকা ‘বিনিয়োগ’করছে তারা, ভারতীয় রুপিতে অঙ্কটা ২০০০ কোটি!

ভারত-পাকিস্তান ফাইনালে সবকিছুতেই যেন আগুন! মাঠের লড়াইয়ের আগে লেগে গেছে টাকার যুদ্ধও। বিজ্ঞাপনের কথাই ধরুন না। ভারতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সম্প্রচার করছে স্টার স্পোর্টস ফাইনাল ম্যাচের জন্য তারা বিজ্ঞাপনের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ১০ গুণ!

ভারত-পাকিস্তানের ‘সাধারণ’ম্যাচ যেখানে উত্তেজনার আগুন ছড়ায় ক্রিকেটের অলিগলিতে, সেখানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের ফাইনালে উত্তেজনার পারদ কোথায় উঠতে পারে, সেটা বলার খুব বেশি দরকার পড়ে না।

সংবাদ সংস্থা ‘রয়টার্স’-এর খবর, ফাইনাল ম্যাচের প্রতি ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে ১ কোটি রুপি। যেখানে অন্য সময় দিতে হয় ১০ লাখ রুপি। বিজ্ঞাপনের দাম বাড়ালেও চাহিদা কিন্তু আকাশমুখী। ইতিমধ্যে প্রায় সব ‘স্লট’ বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্টার স্পোর্টস।

বাজির ‘বাজারে’তো আরও আগুন! ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে প্রায় ২০০০ কোটি রুপির বাজি ধরা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’।

শনিবার পত্রিকাটির খবর, অল ইন্ডিয়া গেমিং ফেডারেশন (এআইজিএফ) জানিয়েছে মোটা অঙ্কের এই বাজিতে শিরোপা জেতার লড়াইয়ে ফেভারিট ভারত।

‘বেটফেয়ার’ ওয়েবসাইটের উদ্ধৃতিও ছেপেছে ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’। যেখানে জানানো হয়েছে, ‘ভারতের পক্ষে ১০০ রুপির বাজি ধরলে পাওয়া যাবে ১৪৭ রুপি, আর পাকিস্তানের পক্ষে ৩০০ রুপি পাওয়া যাবে প্রতি ১০০ রুপিতে। ’ অর্থাৎ বাজিকরদের হিসেবে ভারতের পক্ষে জয়ের পাল্লা ভারি।

২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত হারিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানকে। তবে আইসিসির ৫০ ওভারের টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম সাক্ষাৎ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের। মাঠের বাইরের লড়াই কিন্তু শুরু হয়ে গেছে আগেই, অপেক্ষা এখন আসল লড়াইয়ের।

ফাইনালে ভারতের টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানের সাথে যুদ্ধ হবে পাকিস্তানের পেস বোলিং অ্যাটাকের। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ভারতের টপ-অর্ডার ব্যাটিং এবং পাকিস্তানের পেস বোলিং অ্যাটাক সেরা পারফরমেন্সই প্রদর্শনই করেছে।

ভারতের টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি রানের ফুলঝুড়ি ফুটিয়েছেন। ধাওয়ান ৪ ম্যাচে
৩১৭ রান করেছেন। তাই এখন পর্যন্ত চলমান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ধাওয়ান। গড়-৭৯.২৫। রোহিতের রান ৩০৪। গড়-১০১.৩৩। দু’জনই এবারের আসরে একটি করে সেঞ্চুরি করেছেন।

সেঞ্চুরি না পেলেও, রান তোলার কাজটা ভালোই করেছেন কোহলি। ৪ ম্যাচে ২৫৩ রান করেছেন তিনি। তার গড়-২৫৩। এবারের আসরে ভারতের হওয়া রানের মধ্যে ৮১ দশমিক ৪ শতাংশ রানই করেছেন ধাওয়ান-রোহিত-কোহলি।

ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর তিনটি ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে ভারতের মাত্র ৩ উইকেট শিকার করতে পেরেছিলো পাকিস্তান। এরপর প্রতিটি ম্যাচে পাকিস্তানের পেসাররা ৯ দশমিক ৩৩ করে উইকেট নিয়েছেন। প্রতিটি উইকেটের জন্য পাকিস্তানের পেসাররা খরচ করেছেন ২৩ দশমিক ৭৮ রান। ভারতের বিপক্ষে সেটি ছিলো- ১০৬ দশমিক ৩৩। আর শেষ তিন ম্যাচে ওভারপ্রতি তাদের রান ছিলো ৪ দশমিক ৪৬। তবে ভারতের বিপক্ষে ছিলো ৬ দশমিক ৬৪।

পাকিস্তানের পেসার হাসান আলী ৪ ম্যাচে ১৭২ রানে ১০ উইকেট শিকার করেন। তিনি এখন পর্যন্ত এবারের আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। এরপরই আছেন আরেক পেসার জুনায়েদ খান। ৩ ম্যাচে ১৩৫ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

বিরাট কোহলি সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘কোনো দল খুব ভালো শুরু করে আস্তে আস্তে ম্লান হয়ে যায়। আবার কোনো দল বাজে শুরু করে আস্তে আস্তে উজ্জ্বল হতে থাকে। ’ পাকিস্তান এখানে কোন দলে, সেটি তো আর বলার প্রয়োজন পড়ছে না। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের তাই কোনো তাৎপর্যই দেখছেন না কোহলি। নতুন দিন, নতুন ম্যাচ এবং ৪ জুন এজবাস্টনের তুলনায় ১৮ জুন ওভালের পাকিস্তানও ‘নতুন’।

পাকিস্তানের অগ্রযাত্রায় নিয়তি প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন সেখানেই। হাসির কথায় অনেকের মনে পড়ে যাচ্ছে, এই ইংল্যান্ডেই ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেবারও টুর্নামেন্ট শুরুর আগে পাকিস্তানকে কেউ গোনায়ই ধরেনি। সেই পাকিস্তানই সবাইকে অবাক করে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়।

এসব কথাবার্তা হওয়ার কারণ একটাই, বিরাট কোহলির এই ভারতের সঙ্গে সরফরাজ আহমেদের এই পাকিস্তানের কোনো তুলনাই চলে না। কাগজে-কলমে শক্তি, অভিজ্ঞতা, দুই দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস-সব কিছুই বলছে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ভারতের কাছে ছিল, ভারতের কাছেই থাকবে।

ভারত একাদশ (সম্ভাব্য):
রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটরক্ষক), কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবীচন্দ্রন অশ্বিন/উমেশ যাদব, ভুবনেশ্বর কুমার, জ্যাসপ্রীত বুমরাহ।

পাকিস্তান একাদশ (সম্ভাব্য): আজহার আলী, ফখর জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমির, শাদব খান, হাসান আলী, জুনায়েদ খান।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন