শিরোনাম :

মাশরাফি বিন মোর্তজার শুভ জন্মদিন  আজ


বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০১৭, ০৪:২৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

মাশরাফি বিন মোর্তজার শুভ জন্মদিন  আজ

ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র টাইগার ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার  জীবনের ৩৪ বছর পেরিয়ে আজ ৩৫-এ পা দিলেন। শুভ জন্মদিন, অধিনায়ক।

১৯৮৩ সালের আজকের এই দিনে নড়াইলের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মাশরাফি। কাকতালীয়ভাবে একমাত্র পুত্র সাহেলেরও জন্মদিন আজ। একই দিনে পৃথিবীর মুখ আলো করে আসেন পিতা-পুত্র।

পরিবারের বড় ছেলেটিকে কিছুতেই ঘরে ধরে রাখতে পারেন না বাবা গোলাম মুর্তজা স্বপন ও মা হামিদা বেগম। সারাক্ষণ দস্যিপনায় মেতে থাকাটাকে নিজের একমাত্র কাজ বানিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। পাড়ার মাঠে ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন ছিল মাশরাফির প্রিয় খেলা। সময় পেলে মেতে ওঠেন ফুটবল নিয়ে। যেকোনো খেলায় তাঁর চেয়ে ভালো আর কেউ ছিল না। সমবয়সী তো বটেই, ম্যাশের সঙ্গে বড়রাও পেরে উঠতেন না।

পাড়ায় খেলে বেড়ানো ছেলেটি মাত্র ১১ বছর বয়সেই নড়াইল ক্রিকেট ক্লাবে খেলার সুযোগ পেয়ে যান। ১৯৯১ সালে মাগুরা হয়ে বিকেএসপির ক্যাম্প। সেখানে যোগ দিয়ে নিজের বোলিং শক্তি প্রদর্শন করেন ম্যাশ। এরপরই নাম-ডাক ছড়িয়ে পড়ে তাঁর। বিকেএসপির কোচ বাপ্পি তাঁকে অনেকগুলো বিষয় শিখিয়ে দেন। পরের বছর নড়াইলে এক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অসাধারণ পারফর্ম করার পর জায়গা পেয়ে যান খুলনা বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। এরপর আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক পেয়ে যান মাশরাফি। এর পরই বদলে যায় তাঁর জীবন। ক্যারিবীয় কিংবদন্তি অ্যান্ডি রবার্টস বদলে দেন তাঁর সবকিছু। রবার্টস বলেছিলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে একদিন সেরা বোলারে পরিণত হবেন মাশরাফি।

অনূর্ধ্ব-১৭ ও ১৯ দলে মাশরাফির ব্যাটিং ও বোলিং দেখে তাঁকে জাতীয় দলে ভেড়াতে খুব একটা সময় নেননি নির্বাচকরা। ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে নেন ৪ উইকেট। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে বল করার সুযোগ পাননি।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও জায়গা পেয়ে যান। ফাহিম মুনতাসির ও তুষার ইমরানের সঙ্গে অভিষেক হয় তাঁর। প্রথম ম্যাচেই গতি আর বাউন্স দিয়ে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারদের মতো ব্যাটসম্যানকে অতিষ্ঠ করে তোলেন। সেই ম্যাচে এ দুই ব্যাটসম্যানকে ফেরান মাশরাফি।

অভিষেকের পরই কঠিন জীবন শুরু হয় মাশরাফির। ২০০২ সালে প্রথম ইনজুরিতে পড়েন। গাছে উঠেছিলেন, পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়ে অপারেশন করাতে যেতে হয় চেন্নাইতে। সেবার তাঁকে ১৪ মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়। প্রথমবারের মতো লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। পরের বছর আবার ইনজুরি। এবার ছিঁড়ে ডান পায়ের লিগামেন্ট। অপারেশন করতে গিয়ে অর্থোপেডিক সার্জন ডেভিড ইয়াং টের পান যে আগেরবার বাঁ পায়ের অপারেশনটা ঠিকমতো হয়নি। ফলে এক মাসের ব্যবধানে দুই পায়েই অপারেশন করতে হয় তাঁকে। সেবার ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন নয় মাস।

ইনজুরিকে সঙ্গে নিয়ে ক্যারিয়ারে এগিয়ে গেছেন মাশরাফি। এই সময়ের অর্ধেকটাই মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। ইনজুরির কারণে ঘরের মাঠে ২০১১ সালের বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি। ব্যথানাশক ওষুধ আর ইনজেকশনকে এখন বানিয়ে ফেলেছেন জীবনেরই অনুষঙ্গ। খেলা চলার সময় হাঁটু ফুলে যায় তাঁর। তখন ইনজেকশন দিয়ে ব্যথা নিবারণ করতে হয়। এ ছাড়া হাঁটু থেকে ইনজেকশনের সাহায্যে পুঁজও বের করতে হয়।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। মাত্র ৪৭ ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে টাইগারদের ২৭টি ওয়ানডে ম্যাচে জিতিয়েছেন তিনি। সংখ্যার দিক থেকে ম্যাশের চেয়ে এগিয়ে আছেন কেবল হাবিবুল বাশার। ৬৯ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে ২৯ বার জেতান সাবেক এই অধিনায়ক।

মাশরাফির নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কা-ভারত-পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোকে সিরিজ হারায় টাইগাররা। একটানা ছয়টি সিরিজ জেতে লাল-সবুজের দল। এ ছাড়া তাঁর অধীনেই ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। অধিনায়ক হিসেবে দেশের আর কোনো অধিনায়কেরই এত বেশি সফলতা নেই। এ জন্যই মাশরাফিকে টাইগার অধিনায়কদের অধিনায়ক বলা হয়।

ক্যারিয়ারের ৩৬ টেস্ট খেলে ৭৮ উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনটি হাফ সেঞ্চুরিসহ ৭৯৭ রান করেছেন তিনি। ১৭৯টি ওয়ানডে ম্যাচে নিয়েছেন ২৩২ উইকেট। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের মাশরাফির চেয়ে বেশি উইকেট নেই আর কারোরই। ব্যাট হাতে করেছেন দেড় হাজারেরও বেশি রান।

কপিল দেব, ইমরান খান, স্টিভ ওয়াহ, রিকি পন্টিং, অর্জুনা রানাতুঙ্গাদের মতো বিশ্বসেরা অধিনায়কের তালিকায় মাশরাফির নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন