শিরোনাম :

খুলনা টাইটানসের টানা দ্বিতীয় জয়


রবিবার, ১২ নভেম্বর ২০১৭, ০৭:০৬ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

খুলনা টাইটানসের টানা দ্বিতীয় জয়

ঢাকা পর্বে ফিরেও ছন্দটা ধরে রাখলো খুলনা টাইটানস। ঢাকা পর্বে ফিরে ছন্দটা ধরে রাখলো খুলনা টাইটানস। চিটাগংকে ১৭১ রানের লক্ষ্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেছিল শুরু থেকেই। সেই খুলনার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ঢাকায় জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে মাহমুদউল্লাহর দল। চিটাগংকে হারিয়েছে ১৮ রানে। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে ৩ ম্যাচে দুই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে খুলনা টাইটানস।

খেলতে নেমে শুরু থেকেই খুলনার বোলিং আক্রমণে উইকেট হারাতে থাকে চিটাগং। প্রথম ওভারে আবু জায়েদ রাহির বলে ফেরেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও লুক রনকি। এরপর দিলশান মুনাবিরা ও এনামুল হক বিজয় দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে এই জুটিও ভাঙেন আবু জায়েদ। ততক্ষণে স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২১।

এরপর বিজয়ও থিতু হতে পারেননি। ব্র্যাথওয়েটের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৮ রানে। ধুঁকতে থাকা চিটাগংকে আশার আলো দেখাতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক মিসবাহ ও সিকান্দার রাজা। এক পর্যায়ে এই জুটিতে ভর করেই শত রানের কাছে ছিল চিটাগং। কিন্তু ৩৭ রানে ব্যাট করতে থাকা সিকান্দার রাজাকে একেবারে বোল্ড করে বিদায় করেন পেসার শফিউল। এরপর সঙ্গী ছাড়া মিসবাহ উল হকও টিকতে পারেননি। নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে বিদায় করেন আবু জায়েদ রাহী।

লুইস রিস কিছুক্ষণ মেরে খেলার চেষ্টা করেছিলেন শেষ দিকে। ১৭ বলে তুলেছিলেন ২২ রান। কিন্তু হুমকি হয়ে ওঠার আগেই তাকে বোল্ড করে বিদায় দেন আর্চার। শেষ দিকে তানভীর হায়দার ১৪ রানে ও সানজামুল ইসলাম ৫ রানে অপরাজিত থাকলে ৭ উইকেটে ১৫২ রানে থামে চিটাগংয়ের ইনিংস।

খুলনার পক্ষে ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে একাই ৪ উইকেট নেন আবু জায়েদ। একটি করে উইকেট নেন আর্চার, ব্র্যাথওয়েট ও শফিউল ইসলাম।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল খুলনা টাইটানস। শুরুটা আহামরি না হলেও মিডল অর্ডারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১৭০ রানের পুঁজি পায় খুলনা টাইটানস। অথচ শুরুর ব্যর্থতায় কোনঠাসা হয়ে গিয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। সেই বিপর্যয় থেকে দলকে উতরে যেতে সহায়তা করেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরপর শেষ দিকে কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ও আরিফুল হকের ১৮ বলে অর্ধশত রানের ঝড়ো জুটিতে ১৭১ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় খুলনা।

অবশ্য শুরুতে প্রথম ওভারেই হতাশায় শুরু করেছিল খুলনা। সানজামুলের বলে মেরে খেলেছিলেন চ্যাডউইক। কিন্তু মিড উইকেটে আগেই দাঁড়িয়ে থাকা সৌম্য সরকারের হাতে তালুবন্দী হয়ে ফিরে যান এই তারকা। একটি চারে ওয়ালটন বিদায় নেন ৫ রানে।

এরপর তৃতীয় ওভারেও ব্যর্থতা ধরা দেয় খুলনার ব্যাটিং লাইন আপে। আবারও আঘাত হানেন সানজামুল। ২.৩ ওভারে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফেরেন ক্লিঙ্গার। তিনি ফেরেন ২ রানে। এরমাঝেই অপরপ্রান্ত আগলে রেখে থিতু হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত। ৯ রানে ব্যাট করতে থাকা এই তারকাকেও থিতু হতে দেননি শ্রীলঙ্কার দিলশান মুনাবিরা। একেবারে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে।

তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা খুলনাকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ ও রাইলি রোসো। যদিও ধীরে ধীরে খেলছিলেন দুজন। পোক্ত হওয়ার দিকে থাকা এই জুটিকে দলীয় ৯.৫ ওভারে ভেঙে দেন পেসার তাসকিন। তাসকিনকে উড়িয়ে মেরেছিলেন রোসো। ডিপ স্কোয়ার লেগে সৌম্য সরকারের হাতে তিনি ধরা পড়েন ২৫ রানে। তবে অপর প্রান্ত ধরে খেলতে থাকেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিছু দর্শনীয় বাউন্ডারি মেরে রানের চাকা সচল রাখেন। তবে ব্যক্তিগত ৪০ রানে তাকে এনামুল হকের ক্যাচ বানান পেসার তাসকিন আহমেদ। মাহমুদউল্লাহর ৩৩ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ২টি ছয়।

অধিনায়ক বিদায় নিলে আরও আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন আরিফুল হক ও কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৪ বলে ৩০ রান করলেও শুভাশিষের বলে ফেরেন ব্র্যাথওয়েট। ‍ যাতে ছিল ২টি চার ও ৩টি ছয়। আরিফুল হক ছিলেন আরও আক্রমণাত্মক। ২৫ বলে বিদায় নেন ৪০ রানে। যাতে ছিল ৪টি ছয় ও ১টি চার।

চিটাগংয়ের পক্ষে ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে একাই ৩ উইকেট নেন তাসকিন। দুটি নেন সানজামুল ও একটি করে নেন মুনাবিরা ও শুভাশিষ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন