শিরোনাম :

একান্ত সাক্ষাৎকারে যা বললেন নাসির হোসেন


বুধবার, ৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০৪:০৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

একান্ত সাক্ষাৎকারে যা বললেন নাসির হোসেন

ডেস্ক প্রতিবেদন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন ‘আলাপনে’র সৌজন্যে দেখা গেল নাসিরের আড়ালে থাকা সেই জীবনটা, যেখানে আছে তাঁর বেড়ে ওঠা, পাওয়া-না পাওয়ার গল্প। আছে ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্প। ব্যক্তিগত ভালো লাগা, খারাপ লাগা, পছন্দ-রুচি, ক্যারিয়ার নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা কিংবা জীবনদর্শনের কথা।

প্রথম আলোর সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক রাজীব হাসানের উপস্থাপনায় প্রায় ৩৮ মিনিট ধরে ‘সরাসরি সম্প্রচারিত’ অনুষ্ঠানে জীবনের এ গল্পগুলো বলতে গিয়ে নাসির ছিলেন অকপট, স্বচ্ছন্দ এবং ভীষণ আন্তরিক।

২০১১ সালের ১৪ আগস্ট হারারেতে আন্তর্জাতিক অভিষেকে ৬৩ রান করে ভালোভাবেই জানিয়েছিলেন নিজের আগমনী বার্তা। ১৯ টেস্ট, ৬১ ওয়ানডে ও ৩১ টি-টোয়েন্টি খেলা নাসির এখন দাঁড়িয়ে ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে । প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে এক পাঠক তাঁকে যখন জিজ্ঞেস করলেন, ১২-১৩ বছর বয়সে ‘মাইলো’র জাতীয় পুলে ডাক পাওয়া কি তাঁর ক্যারিয়ারের বড় বাঁকবদল?

নাসির মৃদু হাসলেন, ‘না ওটা আমার টার্নিং পয়েন্ট না। টার্নিং পয়েন্ট অনেক ছিল। ২০০১ সাল থেকে ক্রিকেট খেলছি। ১৬ বছর ধরে খেলছি। আমার প্রতিটি ম্যাচই টার্নিং পয়েন্ট। যে মাইলোর আয়োজনের কথা বলেছেন, অনূর্ধ্ব-১৩ ক্রিকেটের ওই স্কোয়াডে আমি বাদ পড়েছিলাম। আমার ক্যারিয়ার ঘুরিয়ে দিয়েছে—এমন ম্যাচের কথা বললে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিলাম। একটায় সেঞ্চুরি, আরেকটায় ৯৫ করেছিলাম। এই ম্যাচ দুটির জন্য হয়তো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলাম।’

তবে ১৩-১৪ বছর আগে ‘মাইলো’তে বাদ পড়া কতটা কষ্ট দিয়েছিল, সেটি বলতেও ভোলেননি নাসির, ‘তিন-চার দিন খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম! খুব খারাপ লেগেছিল। খারাপ লাগাই স্বাভাবিক। তখন বয়স ১৩। আমার সঙ্গে লেগ স্পিনার তানভীর হায়দারও ছিল। পরে বিকেএসপিতে সুযোগ পেলাম (২০০৪ সালে)।’

ক্রিকেটের অনেক কথাই হলো। নাসির শুনিয়েছেন তাঁর কিছু শখের গল্পও। প্রথম যেবার গাড়ি কিনলেন, কতটা রোমাঞ্চিত ছিলেন, স্মৃতির পাতা উল্টে বললেন সেটিও, ‘গাড়ি কিনেছিলাম চট্টগ্রামের রুবায়েত ভাইয়ের কাছ থেকে। গাড়ি আনতে আমার বড় ভাই চট্টগ্রামে গিয়েছিল। সেদিন তাঁর রাতেই ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ফিরলেন পরের দিন সকালে। গাড়ির রোমাঞ্চে রাতে আমার ঘুম আসেনি! গাড়ি এল ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে। কেনার আগে গাড়ি চালানো শিখে ফেলেছিলাম। ওই ভোরেই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম।’

মাছ ধরাতে ভীষণ আগ্রহ নাসিরের। সময় পেলেই পুকুর কিংবা দিঘির পাড়ে বসে যান ছিপ নিয়ে। তাঁর মৎস শিকার সাধারণত রংপুরেই হয়, ‘ঢাকা থেকে ভাই, বন্ধুদের বলে দিই। ওরা সবকিছু প্রস্তুত করে রাখে। যখন রংপুরে যাই, দুনিয়ার সবকিছু ভুলে যাই। রংপুরের বন্ধুদের সঙ্গে এখানে-ওখানে ঘুরে বেড়াই। এটি অনেক উপভোগ করি। ওখানে মাছ ধরি। বড় ভাই, ছোট ভাইদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলি। বন্ধুদের সঙ্গে অনেক আড্ডা দিই। ঢাকায় বিভিন্ন ধরনের বন্ধু। রংপুরে সবাই ছোটবেলার বন্ধু। এই বন্ধুদের সঙ্গে অন্যদের তুলনা হয় না।’

সিনেমা দেখতে বেশ পছন্দ করেন নাসির। কিন্তু সময়ের অভাবে সেটি হয় না। তবে একবার বিমানে দেশে ফেরার পথে সিনেমা দেখে ভীষণ কেঁদেছিলেন। নাসির যদিও মনে করতে পারেননি সিনেমাটার নাম, ‘কানাডা থেকে ফিরছিলাম। বাংলা সিনেমা ছিল। অনেক কেঁদেছিলাম। কম্বল দিয়ে নিজেকে ঢেকে রেখেছিলাম। কিছুক্ষণ পর খেয়াল করলাম আমাকে কেউ দেখছে কি না। কম্বল দিয়ে চোখ মুছেছি।’

অনেক পাঠক প্রশ্ন করেছেন, নাসির বিয়ে করবেন কবে? নাসিরের জবাব, ‘যখন পরিবার চাইবে। বিয়ে করব পরিবারের মতেই।’ ক্রিকেটের বাইরে তাঁর প্রিয় দল ফুটবলে আর্জেন্টিনা। ফুটবল ক্লাবের মধ্যে পছন্দ বার্সেলোনা। মজার ব্যাপার হচ্ছে লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—দুজনই তাঁর প্রিয় ফুটবলার।

আরেক পাঠক জানতে চান, রাজনীতি নিয়ে নাসিরের কোনো আগ্রহ আছে কি না। নাসিরের জবাব, ‘রাজনীতি নিয়ে একদমই চিন্তা করি না।’ পরক্ষণেই আবার বললেন, ‌ ‘একেবারে চিন্তা করি না বললে ভুল হবে। দিন যত যাচ্ছে কেন যেন এটার প্রতি আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। এটা নিয়ে অনেক কিছু জানতে ইচ্ছে করে। যদি ফিট থাকি আরও ৮-১০ বছর ক্রিকেট খেলব, তারপর এটা নিয়ে চিন্তা করব।’

মাঠে-মাঠের বাইরে দুষ্টুমি-মজায় নাসির মাতিয়ে রাখেন চারপাশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি যে ভীষণ জনপ্রিয়, তার আরেকটা প্রমাণ মিলল এই লাইভ অনুষ্ঠানে। এ ভিডিওটি ফেসবুক ও ইউটিউবে দুপুর পর্যন্ত দেখেছেন প্রায় দেড় লাখের মতো মানুষ। মন্তব্য করেছেন এক হাজারের বেশি পাঠক। ভক্তদের এই ভালোবাসায় নাসির ভীষণ আপ্লুত। ভক্তদের প্রতি তাঁর একটাই কথা, ‘আমাকে যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের বলব, আপনার কাছে আমার যে জিনিসটা ভালো লাগবে, সেটি নেবেন। আমার খারাপ জিনিসটা এড়িয়ে চলবেন।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন