শিরোনাম :

এমসিসির বার্ষিক সভায় বেতন বৈষম্য আর ফিক্সিং-সতর্কতা


বুধবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ০৫:৫৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

এমসিসির বার্ষিক সভায় বেতন বৈষম্য আর ফিক্সিং-সতর্কতা

ডেস্ক প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের যে বেতন বৈষম্য, তা কমানো না গেলে আগ্রহ হারাবেন ক্রিকেটাররা। স্পট ফিক্সিংয়ের মতো দুর্নীতিও কমানো যাবে না। এজন্য ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নিতে হবে। এমন সতর্কবার্তাই দিয়েছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। সিডনিতে মঙ্গলবার এবং বুধবার এমসিসির বার্ষিক সভায় আমন্ত্রিত ছিলেন সাকিব আল হাসান। সভায় যোগ দিয়ে এমসিসি কমিটিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়েও অবহিত করেছেন টাইগার অলরাউন্ডার।

এমসিসি কমিটিতে সাবেকদের মধ্যে রিকি পন্টিং, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, কুমার সাঙ্গাকারারাও আছেন। সভায় ছিলেন ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জনি বেয়ারস্টোও। সেখানে দুজনের কাছ থেকে বিপরীতমুখী বার্তা পেয়েছে এমসিসি। এরপরই আলোচনায় সাকিবের সতর্কমুখী বক্তব্য।

সাকিব বলেছেন, টেস্টের তুলনায় টি-টুয়েন্টি থেকে বেশি আয়ের সুযোগ থাকার কারণে বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণ ক্রিকেটার টেস্ট ক্রিকেটকে আর তাদের মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন না।

বিশ্বের সব দেশেই জাতীয় দল ছেড়ে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রতি ঝুঁকে পড়ার আগ্রহ বাড়ছে ক্রিকেটারদের। যার উত্তম উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশের ক্রিকেটারদের কথা।

২০১৭ সালের অক্টোবরে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইএসপিএন-ক্রিকইফোও বেতন বৈষম্যর একটি চিত্র তুলে ধরে। যেখানে দেখা যায়, দেশের হয়ে খেলে গত বছর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ আয় করেছেন ১.৪৬৯ মিলিয়ন ডলার। বিপরীতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার আয় করেছেন মাত্র ৮৬ হাজার ডলার।

আবার ভারতের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, অধিনায়ক বিরাট কোহলি চেয়ে বেশি বেতন পাচ্ছেন কোচ রবি শাস্ত্রী। গত বছর কোহলির ১ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে শাস্ত্রীর আয় ছিল ১.১৭ মিলিয়ন ডলার।

এসব প্রসঙ্গ টেনে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ও এমসিসি কমিটির সদস্য পন্টিং বলেছেন, ‘ইংলিশ কিংবা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের আপনি জাতীয় দল ছেড়ে আইপিএল খেলতে দেখবেন না। এর কারণ বোর্ড খেলোয়াড়দের সন্তোষজনক বেতন দিয়ে থাকে। তাই বছরের বেশিরভাগ সময় ধরে টেস্টে সেরা খেলোয়াড় পেতে ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি চুক্তি নিশ্চিত করা উচিত। এতে তাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার আগ্রহে ভাটা পড়বে না।’

সাকিবের কথার সূত্র টেনে পন্টিং বলেন, ‘সাকিব উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক দিন ধরে চলে আসা কিছু সমস্যা আর ঘটনার কথা বলেছে। সে এও বলেছে, টাকা (সারা বিশ্বে ক্রিকেট থেকে যে পরিমাণ আয় হয়, এর অংশ) কোথায় যায় সেটা আইসিসিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সে জানে বিশাল অঙ্কের টাকা হয়ত সঠিক জায়গাতেই যাচ্ছে, কিন্তু খেলোয়াড়দের কাছে যেভাবে যাওয়া উচিত, সেভাবে যাচ্ছে না।’

এমন সমস্যা সমাধানে বিশ্বজুড়ে খেলোয়াড়দের যেসব অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে সেগুলোকে আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। সেইসঙ্গে দুর্নীতি বন্ধে বোর্ডগুলোর গভর্নিংবডিকে বেশি সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

ক্রিকেটকে কলুষিত করার মাধ্যম স্পট ফিক্সিংয়ে মূল টার্গেট থাকে তরুণ ক্রিকেটাররা। এজন্য ক্রিকেটারদের শিক্ষার উপর জোর দেয়ার কথা বলেছেন শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা, ‘বিশ্বজুড়ে প্রচুর ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। তাই স্কুল পর্যায়ের ক্রিকেট থেকেই দুর্নীতি সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করতে হবে।’

এমসিসি সভায় আলোচনা হয়েছে নারী ক্রিকেটারদের বেতন বৈষম্য নিয়েও। সেই সাথে সবদেশের টেস্ট সিরিজগুলোতে ডিআরএস এর বাধ্যতামূলক ব্যবহার এবং আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ সব জায়গায় ভারসাম্যের মধ্যে রেখে খেলানোর পরামর্শও দেয়া হয়।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন