শিরোনাম :

চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের ৫১৩ রানের জবাবে ব্যাট করছে শ্রীলঙ্কা


বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৩:৩৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের ৫১৩ রানের জবাবে ব্যাট করছে শ্রীলঙ্কা

ডেস্ক প্রতিবেদন: বাংলাদেশের দ্বিতীয় দিন শেষে ৫১৩ রানের জবাবে ব্যাট করছে শ্রীলংকা। শ্রীলঙ্কা প্রতিরোধ গড়েছে কুসল মেন্ডিস ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভার ব্যাটে। চা-বিরতির আগে শেষ ওভারে তাইজুল ইসলামকে টানা তিন চার হাঁকিয়ে দলের সংগ্রহ পঞ্চাশ রানে নিয়ে গেছেন ধনঞ্জয়া।

৭৪ বলে এসেছে দ্বিতীয় উইকেট জুটির ফিফটি। চা-বিরতিতে যাওয়ার সময়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১৫ ওভারে ৫০/১। অতিথিরা এখনও পিছিয়ে ৪৬৩ রানে। মেন্ডিস ১৩ ও ধনঞ্জয়া ৩৭ রানে ব্যাট করছেন।

শুরু থেকে শট খেলছেন তিন নম্বরে নামা ধনঞ্জয়া। ৪ রানে জীবন পাওয়া মেন্ডিস গুটিয়ে রেখেছেন নিজেকে।

একমাত্র উইকেটটি নেন অফ স্পিনার মিরাজ। আঁটসাঁট বোলিংয়ে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখেন মুস্তাফিজুর রহমান। দারুণ ফুটওয়ার্কে স্পিনারদের চেপে বসতে দেননি ধনঞ্জয়া-মেন্ডিস।

মুস্তাফিজুর রহমানকে চার হাঁকানোর পরের বলে ফিরে যেতে পারতেন কুসল মেন্ডিস। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ক্যাচ দ্বিতীয় স্লিপে নিতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ।

মুস্তাফিজের বেরিয়ে যাওয়া বল মেন্ডিসের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে ক্যাচ যায় স্লিপে। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে চেষ্টা করেছিলেন মিরাজ। কিন্তু মুঠোয় জমাতে পারেননি। ৪ রানে বেঁচে যান মেন্ডিস।

৫ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ১৩/১। মেন্ডিস ৪ ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ৯ রানে ব্যাট করছেন।

ব্যাটিংয়ে বড় স্কোরের পর বল হাতে বাংলাদেশ সাফল্য পেল শুরুতেই। মেহেদী হাসান মিরাজ ফিরিয়ে দিলেন দিমুথ করুনারত্নেকে।

নতুন বলে প্রথম ওভার মেডেন নেওয়ার পরও মুস্তাফিজকে মাত্র এক ওভার করিয়েই মিরাজকে এনেছিলেন অধিনায়ক। এমনিতে বেশ সাবধানী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত করুনারত্নে করে ফেললেন ভুল। ব্যাট চালালেন বেশ বাইরের বলে। স্লিপে ক্যাচ নিলেন ইমরুল।

শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। জমে গেলে লম্বা ইনিংস খেলতে পারদর্শী করুনারত্নের বিদায় শূন্য রানেই। শ্রীলঙ্কার রানও ১ উইকেটে শূন্য।
৫১৩ রানে থামল বাংলাদেশ

১১ নম্বর ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজুর রহমানকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় সেশনে স্বাগতিকদের গুটিয়ে দিলেন সুরঙ্গা লাকমল। ডানহাতি পেসারের শর্ট বলে উইকেটকিপার নিরোশান ডিকভেলাকে ক্যাচ দেন মুস্তাফিজ।

অভিষেকে বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে সেঞ্চুরির হাতছানি ছিল মাহমুদউল্লাহর সামনে। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে তত দূরে যেতে পারলেন না এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ৮৩ রানে অপরাজিত থাকা মাহমুদউল্লাহর ১৩৪ বলের ইনিংসে ৭টি চারের পাশে ছক্কা দুটি।

প্রথম ইনিংসে ১২৯.৫ ওভারে ৫১৩ রান করে বাংলাদেশ। টেস্টে এটি তাদের পঞ্চম সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় দিন ৩৯.৫ ওভারে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রান যোগ করে স্বাগতিকরা।

তিনটি করে উইকেট নেন লাকমল ও রঙ্গনা হেরাথ। দুটি উইকেট নেন লাকশান সান্দাকান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৩৭৪/৪) ১২৯.৫ ওভারে ৫১৩ (তামিম ৫২, ইমরুল ৪০, মুমিনুল ১৭৬, মুশফিক ৯২, লিটন ০, মাহমুদউল্লাহ ৮৩*, মোসাদ্দেক ৮, মিরাজ ২০, সানজামুল ২৪, তাইজুল ১, মুস্তাফিজ ৮; লাকমল ২৩.৫-৪-৬৮-৩, কুমারা ১৫-১-৭৯-০, দিলরুয়ান ২৭-৪-১১২-১, হেরাথ ৩৭-২-১৫০-৩, সান্দাকান ২২৩-১-৯২-২, ধনঞ্জয়া ৫-০-১২-০)

মাহমুদউল্লাহর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে পাঁচশ রানে গেছে বাংলাদেশের সংগ্রহ। টেস্টে এটি তাদের সপ্তম পাঁচশ ছোঁয়া স্কোর।

চট্টগ্রামে নিজেদের তৃতীয় পাঁচশ ছোঁয়া স্কোর পেতে ১২৭.৫ ওভার লেগেছে বাংলাদেশের। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫০১ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫০৩ রানের ইনিংস আছে স্বাগতিকদের।

রঙ্গনা হেরাথের বলে মুস্তাফিজুর রহমানের ছক্কায় ওই দুই স্কোর পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১২৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৫০৯/৯। মাহমুদউল্লাহ ৮০ ও মুস্তাফিজ ৮ রানে ব্যাট করছেন।

মাহমুদউল্লাহর দুই হাজার

বাংলাদেশের সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দুই হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মাহমুদউল্লাহ। লাকশান সান্দকানকে চার হাঁকিয়ে নিজের রান দুই হাজারে নিয়ে যান সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে এই ম্যাচে স্বাগতিকদের অধিনায়ক।

১ হাজার ৯৩১ রান নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট শুরু করেন মাহমুদউল্লাহ। যখন মাইলফলক স্পর্শ করেন তখন ক্রিজে তার সঙ্গী ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজুর রহমান।

মাইলফলক স্পর্শ করতে ৬৭ ইনিংস লেগেছে মাহমুদউল্লাহর। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে কম ইনিংসে দুই হাজার রানের রেকর্ড মুমিনুল হকের। টেস্টের প্রথম দিন ৪৭তম ইনিংসে মাইলফলক স্পর্শ করে রেকর্ড গড়েন তিনি।

কোনো দরকার ছিল না এত ঝুঁকি নিয়ে তিন রানের চেষ্টা করার। খুব বড় ঝুঁকি নিয়ে তার চড়া মাশুল দিতে হল মেহেদী হাসান মিরাজকে হারিয়ে।

রঙ্গনা হেরাথের স্পিন করে বেরিয়ে যাওয়া বল মাহমুদউল্লাহ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে পাঠান সীমানার কাছাকাছি। দুটি রান হয়ে যায় সহজেই। তৃতীয় রান নেওয়ার পথে ক্রিজে পৌঁছতে ঝাঁপিয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু লাহিরু কুমারার থ্রো পেয়ে নিরোশান ডিকভেলা বেলস ফেলে দেওয়ার সময় একটু দূরেই ছিলেন তিনি।

১৯ বলে একটি করে ছক্কা-চারে ২০ রান করে রান আউট হয়ে ফিরেন মিরাজ। ১০৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৪১৭/৭। ক্রিজে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গী অভিষিক্ত সানজামুল ইসলাম। সুরঙ্গা লাকমলকে দারুণ এক স্ট্রেট ড্রাইভে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে চারশ রানে নিয়ে গেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

একশতম ওভারে এসেছে টেস্টে বাংলাদেশের ১৭তম চারশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এনিয়ে পাঁচবার চারশ ছাড়ানো স্কোর পেল তারা।

দ্বিতীয় দিন শুরু থেকে উইকেটে গ্রিপ করছে বল। বাউন্সও অসমান। বোলাররা উইকেট থেকে সহায়তা পাওয়ায় রানের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে ব্যাটসম্যানের।

বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথকে বেরিয়ে এসে উড়াতে চেয়েছিলেন মোসাদ্দেক। লেগ স্টাম্পের বলে টাইমিং করতে পারেননি। সহজ ক্যাচ যায় মিড অন ফিল্ডার লাকশান সান্দাকানের কাছে। ১৫ বলে একটি চারে ৮ রান করে ফিরে যান মোসাদ্দেক।

৯৭ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৩৯২/৬। মাহমুদউল্লাহ ১৭ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ১ রানে ব্যাট করছেন। টেস্ট ক্রিকেটে দেড় যুগের পথচলায় প্রথম দিনে বাংলাদেশের এটিই সর্বোচ্চ রান। আগের সর্বোচ্চ ছিল ৩৬৫। সব দিন মিলিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ।


প্রথম দিন শেষে স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৯০ ওভারে ৩৭৪/৪ (তামিম ৫২, ইমরুল ৪০, মুমিনুল ১৭৫*, মুশফিক ৯২, লিটন ০, মাহমুদউল্লাহ ৯*; লাকমল ১৭-৩-৪৩-২, কুমারা ১২-১-৬৪-০, দিলরুয়ান ২৪-৪-৯৮-১, হেরাথ ২০-১-১০০-০, সান্দাকান ১৩-১-৫৮-১, ধনঞ্জয়া ৪-০-১১-০)

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন