শিরোনাম :

ব্যর্থ হলো ব্রাজিল


সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮, ০১:৪৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ব্যর্থ হলো ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্কঃ: ১৯৭৮ আসরের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচ ব্রাজিল জিততে ব্যর্থ হলো। রস্তোভ-অন-ডনে রোববার রাতে ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। ফিলিপে কৌতিনিয়ো ব্রাজিলকে প্রথমার্ধে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে স্টিভেন সুবারের গোলে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড।

বিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হলো দল দুটি। ১৯৫০ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ২-২ গোলে।

শতভাগ ফিট না থাকলেও পুরো ম্যাচেই খেলেন নেইমার। দলকে জেতানোর সুযোগ এসেছিল তার সামনে কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি তিনিও।

আসলে কাজে লাগাতে দেয়া হয়নি তাঁকে। পুরো ম্যাচজুড়ে সদ্য চোট থেকে ফেরা নেইমারকে ঘায়েল করার দায়িত্ব ছিল সুইস মিডফিল্ডার ভ্যালন বেহরামির।

ফলে নিজেকে ঠিকমতো প্রস্ফুটিতই করতে পারেননি নেইমার।

পুরো ম্যাচে দশ-দশবার ফাউলের শিকার হয়েছেন নেইমার। সুইস খেলোয়াড়েরা যেন নেইমারকে লক্ষ্য বানিয়েই মাঠে নেমেছিলেন।

নেইমারের কাছে উড়ে আসা কোনো বলই দখল করতে দেননি ভ্যালন বেহরামি। ৪৪টি পাসের মধ্যে ৪১টিতে সফল হয়েছেন। ট্যাকল করেছেন ছয়টির মতো! ফাউল করেছেন ৪ বার, বল কেড়ে নিয়েছেন দুবার।

ভ্যালন বেহরামির কার্যকলাপ দেখেই স্পষ্ট হয়েছে নেইমারকে ঘায়েল করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। পরে অবশ্য বেহরামি একটা হলুদ কার্ড খেয়ে গেলে তাঁকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেন কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ।

বেহরামির বদলে মাঠে নামা ডেনিস জাকারিয়া ম্যাচের বাকিটা সময় নেইমারকে ঠেকিয়েছেন কোচের নির্দেশ মতোই।

গ্রানিত শাকা, স্টেফান লিখটস্টাইনার, ম্যানুয়েল আকাঞ্জি, ফাবিয়ান শায়ের প্রভৃতি খেলোয়াড়দেরও মূল লক্ষ্য ছিলেন এই নেইমার।

নেইমারকে যে টার্গেট করা হয়েছিল তার একটা ছোট্ট পরিসংখ্যান দেয়া যাক।
খেলা শুরুর ১৪ মিনিটেই নেইমারকে ডি বক্সের সামনে কঠিন ট্যাকল করে বসেন বেহরামি। বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে নেইমারের পায়ের সঙ্গে পেঁছিয়ে তাকে ফেলে দেন।

৩১তম মিনিটে পেছন থেকে নেইমারকে আঘাত করেন সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক লিচস্টেইনার। ফলে হলুদ কাড দেখতে হয় তাকে।

এরপরও নেইমারকে হার্ড ট্যাকল করা বন্ধ হয়নি। বরং, পিএসজি তারকাকে শারীরিক আঘাত করে করে হলুদ কার্ড দেখেন আরও দুইজন। ৬৫ মিনিটে ফ্যাবিয়ান স্কারের পর ৬৮ মিনিটে হলুদ কার্ড দেভেন ভ্যালন বেহরামি।

কেবল ফাউলের শিকার ব্রাজিলিয়ানদের কথা হিসাবে নিলে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর এত বেশি ফাউলের শিকার হননি কোনো ব্রাজিলীয় ফুটবলার।

নেইমারকে সুইস খেলোয়াড়েরা যেভাবে ফাউলে ফাউলে জর্জরিত করেছেন, সেটি একটা রেকর্ডই।

১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এবং ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা আলান শিয়ারার একই নৃশংসতার শিকার হন।

সে বছর বিশ্বকাপে এই সেরা ইংলিশ খেলোয়াড় আলান শিয়ারারকে ১১ বার ফাউল করেছিল আফ্রিকার দল তিউনিসিয়া।

প্রসঙ্গত, কাল ব্রাজিল-সুইজারল্যান্ড ম্যাচের প্রথমার্ধে কৌতিনহোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সেই গোল শোধ করে দেয় সুইজারল্যান্ড।

পরের ৪০ মিনিট আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে খেলা হয়েছে। কিন্তু গোল বের করতে পারেনি ব্রাজিল কিংবা সুইজারল্যান্ডের কেউই।

খেলার ২০ মিটেই অসাধারণ এক গোল করলেন বার্সা তারকা কৌতিনহো। জাগিয়ে তোলেন রোস্ত অন-ডনের দর্শকদের। ডান পায়ের অসাধারণ এক শট করে।

প্রথমে লেফট উইং থেকে বল নিয়ে ওয়ান টু ওয়ান এগিয়ে এলেন নেইমার এবং মার্সেলো। বক্সের ভেতর থেকে মার্সেলোকে পাস দেন নেইমার।

বক্সের বাম পাশ থেকে শট নেন মার্সেলো। বলটি গোলের সামনে থেকে ফিরে আসে। পেয়ে যান কৌতিনহো। বক্সের একেবারে মুখ থেকে তার ডান পায়ের বুলেট গতির শট সুইজারল্যান্ডের জাল এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয়।

সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক সোমার কোনো সুযোগই ফেলেন না বলটি ঠেকানোর। ব্রাজিল ১ : ০ সুইজারল্যান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পর গোল শোধ করতে মরিয়া সুইজারল্যান্ড। ব্রাজিলের সঙ্গে পাল্টা আক্রমণেও উঠে আসছিল তারা।

শেষ পর্যন্ত খেলার ৫০তম মিনিটে গিয়ে অসাধারণ এক হেডে সুইসদের সমতায় ফেরান স্টিভেন জুবের। জাদরান শাকিরি কর্ণার থেকে অসাধারণ কিক নেন।

গোলমুখে একেবারে অরক্ষিত ছিলেন জুবের। মিরান্দা সামনে থাকলেও জুবের যে পেছনে যে ফাঁকায় থাকবেন কেউ সেটা ভাবতেই পারেননি তিনি।

সুতরাং, দারুণ এক হেডে ব্রাজিলের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। ব্রাজিল ১ : ১ সুইজারল্যান্ড।

এর আগে ১১ মিনিটেই অসাধারণ এক সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সুযোগটা তৈরি করেছিলেন নেইমার। বাম পাশ থেকে কয়েকজনকে কাটিয়ে তিনি বলটা ঠেলে দেন সুইজারল্যান্ডের গোলমুখে।

সেখানে ছিলেন পওলিনহো। সামনে গোলরক্ষক এবং পাশে একজন ডিফেন্ডার। ভালোবাবে শটটা নিতে পারলেই গোল। কিন্তু ঠিকভাবে শটটাই নিতে পারলেন না তিনি। ডান কোন ঘেঁষে বলটা চলে যায় বাইরে।

শেষ দিকে ফার্নান্দিনহো, রেনাতো আগুস্তো এবং রবার্তো ফিরমিনোকে নামিয়েও গোলের দেখা পায়নি ব্রাজিল। বরং ৮৮ মিনিটে দারুণ এক হেড করেও গোলের দেখা পেলেন না নেইমার।

গোলরক্ষক সোমের ঠেকিয়ে দেন সেটা। ৯০ মিনিটে নেইমারের ফ্রি কিক থেকে বল পেয়ে ফিরমিনো দারুণ হেড করলেও গোলরক্ষক সোমার সেটি ফিরিয়ে দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ আসরে দেশের মাটিতে সেমি-ফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে উড়ে গিয়েছিল ব্রাজিল।

পরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হেরেছিল নেদারল্যান্ডসের কাছে। বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে জয়শূন্য থাকল টুর্নামেন্টের সফলতম দলটি।

আগামী শুক্রবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কোস্টারিকার বিপক্ষে খেলবে ব্রাজিল। একই দিন সার্বিয়ার মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন