শিরোনাম :

ইতিহাস গড়ে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া


বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই ২০১৮, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ইতিহাস গড়ে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

ক্রিয়া ডেস্ক: ১৯৯১ সালে যুগোস্লোভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর ছয়টি বিশ্বকাপের পাঁচটিতেই খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সালে বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের অভিষেকেই শেষ চারে পা রেখেছিল তারা। ঐ আসরে তৃতীয় হয়েছিল দলটি। এতদিন বিশ্বমঞ্চে দেশটির সেরা পারফরম্যান্স ছিল সেটাই। কিন্তু বুধবার সব কিছু পেছনে ফেলে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ক্রোয়েশিয়া।

বুধবার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে চলতি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি ফাইনালের নির্ধারিত সময়ে ১-১ এর সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। এরপর ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়ার ভাগ্য নির্ধারণে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় খেলা। এ অর্ধের প্রথম ১৫ মিনিটেও সমতায় ছিল দল দুটি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বল গড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে মারিও মানজুকিচ। এরপর শত চেষ্টা করেও আর ১৯৬৬ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা ফিরতে পারেনি ম্যাচে। যে কারণে হ্যারি কেইনদের ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল। অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে ওঠার বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে ওঠে ক্রোয়েটরা। সেটা তো স্বাভাবিক। বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা পাওয়া বলে কথা!

কিরান ট্রিপিয়ারের গোলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান ইভান পেরিসিচ। অতিরিক্ত সময়ে মারিও মানজুকিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েটরা। তাতেই ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল ক্রোয়েশিয়া। আগামী রবিবার শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে দলটির প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।

ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে লিনগার্ড বল নিয়ে দ্রুত ছুঁটছিলেন ক্রোয়েশিয়ার ডি-বক্সে। কিন্তু তাকে অবৈধভাবে বাঁধা দেন লুকা মদ্রিচ। যে কারণে রেফারি দেন ফাউলের বাঁশি। সে সুযোগে ফ্রিকিক থেকে কিরান ট্রিপিয়ার করেন অসাধারণ গোল। তার ফ্রি-কিক ঠেকানোর সুযোগই পাননি গোলরক্ষক দানিয়েল সুবাসিচ। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এরআগে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই হ্যান্ডারসনের ফাউলের শিকার হয়েছিলেন মদ্রিচ। ফ্রিকিক পেয়েছিল দলটি। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দলটি।

এদিকে ম্যাচের ১৩তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া।কিন্তু মারিও মানজুকিচ পারেননি ফ্রিকিক থেকে দলটির জালের দেখা পাওয়াতে। তার নেয়া শট অবশ্য হ্যারি ম্যাগুইয়ার হেড করে প্রতিহত করেন। এদিকে ১৯তম মিনিটে প্যারিসিসও পারেননি লক্ষ্যে বল রাখতে।

২৬তম মিনিটে লিড বাড়ানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু গোলরক্ষক সুবাসিচকে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি হ্যারি কেন। তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পরই ইংলিশ শিবিরে সংঘবদ্ধ আক্রমণ করে ক্রোয়েটরা। কিন্তু গোলরক্ষক পিকফোর্ডের কারণে এবার বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন আন্তে রেবিচ। শেষ পর্যন্ত শত চেষ্টা করেও বিরতির আগে আর জালের দেখা পায়নি দলটি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে ক্রোয়েটরা। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ৬৫তম মিনিটে গোলের সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া। তবে ডি-বক্স থেকে ইভান পেরিসিচের শট ফেরে রক্ষণে দুই জনের গায়ে লেগে। তবে তিন মিনিট পর ডান দিক থেকে শিমে ভারসালকোর ক্রসে পা অনেক উঁচিয়ে বল জালে পাঠান পেরিসিচ। তাতে সমতায় ফেরে দলটি।

চার মিনিট পর ভাগ্যের সহায়তায় বেঁচে যায় ইংল্যান্ড। পেরিসিচের শট পিকফোর্ডকে ফাঁকি দিলেও বল পোস্টে লেগে ফিরে। এর কিছুক্ষণ পরই লিড বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার ক্রস দ্বিতীয়বারে লেগে ফিরে আসে। ৮৩তম মিনিটে বুক দিয়ে ডি-বক্সে বল নামিয়ে মারিও মানজুকিচের নেওয়া শট দক্ষতার সঙ্গে ঠেকান পিকফোর্ড। এরপর নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে আর কোন দল জালের দেখা না পেলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এ অর্ধের প্রথম ১৫ মিনিট বলতে গেলে ইংলিশ শিবিরে একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে ক্রোয়েশিয়া। সেই সুযোগে ম্যাচের ১০৯ তম মিনিটে মারিও মানজুকিচ ক্রোয়েটদের এগিয়ে দেন ২-০ ব্যবধানে। ইভান পেরিসিচের অ্যাসিস্টে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের মধ্যে অনেকটা ফাঁকায় পেয়ে বাঁ পায়ের জোরাল শটে বল জালে জড়িয়ে আনন্দে মাতেন তিনি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন