শিরোনাম :

সপ্তম উইকেটে রেকর্ড জুটি


সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

সপ্তম উইকেটে রেকর্ড জুটি

ঢাকা: ১৩৯ রানে ৬ উইকেটের পতন! জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে স্কোর বোর্ড উপহাস করছে। ২শ’ হবে তো? দীর্ঘদিন পর মিরপুর শেরে বাংলা মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। কানায় কানায় ভরা স্টেডিয়াম। প্রায় ১৮ হাজার দর্শক তখন উৎকণ্ঠায় দারুণভাবে নীরব। কিন্তু ইমরুল কায়েস দাঁড়ালেন বুক চিতিয়ে। সঙ্গ দিলেন জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে থাকা তরুণ মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। দেশের ক্রিকেটে সপ্তম উইকেটে রেকর্ড জুটি গড়লেন দু’জন। দু’জন যখন আউট হলেন তখন দর্শকরা উৎসবে মাতোয়ারা।

কারণ নির্ধারিত ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে জ্বলজ্বল করছিল ২৭১ রান তাও ৮ উইকেট হারিয়ে। আগের দিন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছিলেন মিরপুরের উইকেটে ২৫০ হলেই জয় সম্ভব। সেখানে অধিনায়কের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। জিম্বাবুয়ের সামনে তখন ২৭২ রানের কঠিন লক্ষ্য। এ সবই ইমরুলের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরি ও সাইফ উদ্দিনের প্রথম ফিফটির কল্যাণে।
বাংলাদেশের শুরুটা কিন্তু শেষের মতো ছিল না। টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক। ভয় ছিল মিরপুরের উইকেটের রহস্যময় অচেনা আচরণ নিয়েও। হলও তাই ১৭ রানের মধ্যেই ফিরে গেলেন দু’জন।

তবে বিপদে পড়া দলকে ইমরুলের সঙ্গে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের জুটি। সপ্তম উইকেটে এটি শুধু বাংলাদেশের রেকর্ড জুটিই নয় ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসেও এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ। দেশের ক্রিকেটে এতদিন সপ্তম উইকেটে সর্বোচ্চ ১০১ রান এসেছিল মুশফিকুর রহীম ও নাঈম ইসলামের জুটিতে। বলতে গেলে এটিই দ্বিতীয় শতরানের জুটি। অন্যদিকে ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ১৭৭ রানের জুটির মালিক ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ ও বাটলার। এর পরেরটি ১৩৮ও ইংলিশ আদিল রশিদের সঙ্গী ওকস। সপ্তম উইকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটির মালিক অবশ্যই দুই জিম্বাবুইয়ান অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও হিথ স্ট্রিকের। যা করেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০১ এ হারারেতে। তারপরই জায়গা করে নিয়েছেন ইমরুল-সাইফ উদ্দিন।

দিনের শুরুতে এশিয়া কাপের ফাইনালে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজের জাত চেনানো লিটন ছিলেন ভীষণ নড়বড়ে। ১ রানের সময় রান আউটের হাত থেকে বেঁচেছেন এরপর একবার বেঁচে গেছেন ক্যাচ দিয়ে। তার পরও শুধরাতে পারেননি নিজেকে। উইকেট দান করে এসেছেন মাত্র ৪ রান করে। এরপর ৩০ বছর ২৯৫ দিন বয়সে অভিষিক্ত ফজলে রাব্বি মাহমুদ সুযোগ পেয়েছিলেন দীর্ঘ অপেক্ষার পর। কিন্তু তার অভিষেকটা হয়ে থাকলো সাদামাটা। সেখান থেকেই শুরু ইমরুলের আসল লড়াই। দলের ব্যাটিং ভরসা মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে জুটিতে চেষ্টা করেন দলকে রক্ষার। কিন্তু হয়নি, লেগ স্পিনার ব্রেন্ডন মাভুটাকে বাজে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন।

এরপর অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় দল। সেখানে ইমরুলের সঙ্গে অবদান রাখেন মোহাম্মদ মিঠুন। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের স্পিনারদের পাল্টা আক্রমণে চাপে ফেলে তারা। মাভুটাকে টানা দুই বলে ছক্কা হাঁকান ইমরুল। এরপর সিকান্দার রাজাকে তিনটি ছক্কা হাঁকান মিঠুন। তাদের ৭১ রানের দারুণ জুটি গ্যালারিকে আবারো উজ্জীবিত করে তুলেছিল। কিন্তু কাইল জার্ভিসের বলে অযথা খোঁচা দিয়ে ৩৭ রানে আউট হয়ে মিঠুন ফিরিয়ে দেন ফের হতাশা। ক্রিজে এসে যা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়ে যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। মিঠুনের পর মাহমুদুল্লাহ ও মিরাজও শিকার জার্ভিসের। ২ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৩০তম ওভারে দেড়শর আগেই নেই ৬ উইকেট।
তবে সেখান থেকে ইমরুল ১১৮ স্পর্শ করেন সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির আগে ছিল তিন ছক্কা, সেঞ্চুরির পর ছক্কা মারেন আরো তিনটি। ৪৯তম ওভারে যখন আউট হয়ে ফিরছেন, নামের পাশে তখন জ্বলজ্বল করছে ১৪৪ রান ১৪০ বলে। সেখানে চারের মার ১৪ ও ছক্কা হাঁকান ৬টি। সাইফ উদ্দিন ফিরেছেন পঞ্চাশ ছুঁয়েই। তার ৬৯ বলের ইনিংসে খেলেছেন ৩ চার ও ১ ছয়ের মার। তবে ততক্ষণে দল পৌঁছে গেছে নিরাপদ দূরত্বে। দলের পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান এসেছে মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাট থেকে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন