শিরোনাম :

মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে চালক টাইগারেরা


মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে চালক টাইগারেরা

ঢাকা: ৫২২ রান, ৭ উইকেট হারিয়ে। প্রথম ইনিংসেই দ্বিতীয় দিনের চা বিরতির পরও ব্যাটিং চললো। এরপর বীরদর্পে ইনিংস ঘোষণা। দুইদিনে ১৬০ ওভার খেলেছে বাংলাদেশ দল। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে ৮ বার ৫শ’ ছাড়িয়েছে দলীয় রান। যা, জায়গা করে নিয়েছে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের ৫ম স্থানে। মুমিনুল হক সৌরভের দেড়শ রান এরপর মুশফিকুর রহীমের ডাবল সেঞ্চুরিতে ইতিহাস। ব্যক্তিগত ও দলীয় রেকর্ডের ছড়াছড়ি যে মিরপুর টেস্ট।

অথচ আগের চার টেস্টের ৮ ইনিংস? ভাবা যায় কতটা বিবর্ণ! যেখানে কোনো সেঞ্চুরি তো ছিল না। এমনকি দলীয় দেড়শ রান মাত্র একটিতে। কোথায় যেন বাধা পড়েছিল অদৃশ্য শিকলে। হ্যাঁ, গত দুদিনে মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টাইগারদের ব্যাটে ছিল সেই শিকল ভাঙার গান। জবাব দিতে নেমে শেষ বিকালে সুবিধা করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ২২ রানে প্রথম ইউকেট। অভিষিক্ত পেসার খালেদ আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান চেপে ধরলেও দলকে প্রথম উইকেট উপহার দেন সিলেট টেস্টে বল হাতে নায়ক স্পিনার তাইজুল ইসলামই। এখনো মাসাকাদজার দল পিছিয়ে আছে ৪৯৭ রানে। ফলোঅন এড়াতে প্রয়োজন ২৯৮ রান। তবে হাতে অক্ষত আছে ৯টি উইকেট।

এই ভাবে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলার নজির ক’টি আছে? বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬৩৮ রান এসেছিল ২০১৩ তে শ্রীলঙ্কার গল স্টেডিয়ামে। লঙ্কানদের বিপক্ষে সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন মুশফিকুর রহীম। এরপর গেল বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ৮ উইকেটে ৫৯৫ আসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে সাকিব আল হাসান ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। আর মুশফিকের ব্যাট থেকে এসেছিল ১৬৯ রান। এর আগে ২০১২ তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর মাঠে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৫৬ রান ছিল প্রথম ও শেষ ৫শ’ ছাড়ানো স্কোর। আর প্রথম ইনিংসে এই মাঠে সর্বোচ্চ ৪১৯ রানের ইনিংসটি ছিল ২০১০ এ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। বলতে গেলে ৬ বছর পর ঢাকার মাঠে ৫শ’ রানের ইনিংস দেখা মিললো মুশফিক-মুমিনুল ও মেহেদী হাসান মিরাজের কল্যাণে। ২০১৫ তে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫৫৫/৬ রান রয়েছে এখনো চতুর্থ স্থানে। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ শেষ দিকে এসে (১৮ ওভার বাকি থাকতে) ইনিংস ঘোষণা না করলে হয়তো সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের তালিকাতে এই ইনিংসটি আরো উপরে অবস্থান করতো। কারণ ৮ম উইকেটের জুটিতেও রেকর্ড গড়ে তখনো মাঠে দাঁড়িয়েছিলেন মুশফিকুর রহীম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

৩০৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। বলতে গেলে ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। আগের ১১১ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিককে দারুণ ভাবে সঙ্গ দিতে থাকেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। নিজেদের মধ্যে ৭৩ রানের জুটি গড়ে বড় কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন তারা। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির পর পরই ব্যক্তিগত ৩৬ রানে আউট হন অধিনায়ক। জার্ভিসের বলে চাকাভাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর আরিফুল হকও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৪ রান করে আউট জার্ভিসের বলেই। তবে অষ্টম উইকেটে মুশফিকের ভরসা হয়ে ক্রিজে আসেন মিরাজ। চতুর্থ উইকেটে মুমিনুল হককে নিয়ে দেশের সেরা জুটি গড়েছিলেন মুশফিকুর রহীম। পরে মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে অষ্টম উইকেটে গড়লেন আরেকটি রেকর্ড জুটি। ২০১০ সালে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অষ্টম উইকেটে নাঈম ইসলামের সঙ্গে মুশফিকের ১১৩ রানের জুটি ছিল আগের সেরা। শেষ পর্যন্ত তাদের জুটিতে আসে অপরাজিত ১৪৪ রান। মিরাজ ১০২ বল খেলে টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটির দেখা পান। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ার সেরা ৬৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন মিরাজ। অন্যদিকে মুশফিকের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি অপরাজিত ২১৯ রানেই থামে। খেলেন ৪২১ বল যেখানে ছিল ১৮ চারের মারের সঙ্গে একটি ছক্কাও।

এই নিয়ে ১১০ টেস্টে মাত্র ১১ বার ইনিংস ঘোষণা করলো বাংলাদেশ। এর মধ্যে গতকালসহ মাত্র ৩ বারই প্রথম ইনিংস ঘোষণা করতে পেরেছে টাইগাররা। গেল বছর প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৯৫/৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। আর গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫২২/৭ রানে। আর প্রথমটি ছিল ২০১১ তে ৩৫০/৫ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রামে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৫শ’ ছাড়ানো ইনিংস সব মিলিয়ে ৮টি। এর মধ্যে দেশের মাঠে ৬ বার।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন