শিরোনাম :

উপভোগ করছেন তাইজুল


বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

উপভোগ করছেন তাইজুল

ঢাকা: ওয়াহিদুল হক গণি, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সোহেল ইসলামরা বাংলাদেশের স্থানীয় কোচ। তারা প্রায়ই বাংলাদেশের স্পিনারদের নিয়ে কাজ করেন। তাদের সবার মতেই, বাংলাদেশ জাতীয় দলের এখন বল স্পিন করানোর ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি তাইজুল ইসলামের। এই বাঁহাতি স্পিনারকেই তারা মূলত ‘স্পিনার’ হিসেবে ধরেন।

টেস্ট অভিষেকের পর সেটি প্রমাণ করে চলেছেন তাইজুল। চলনে, তারকা খ্যাতিতে সতীর্থদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে তিনি। সাদা পোশাকের ফরম্যাটটার মতোই তার ক্যারিয়ারে কখনোই রঙিন আলোর ছায়া পড়েনি। তবে নিভৃতে ঠিকই নিজের কাজটা করে যাচ্ছেন তাইজুল। সিলেটের পর মিরপুরে তার ঘূর্ণিতেই নাকাল হলো জিম্বাবুয়ে।

গতকাল মিরপুরে ১০৭ রানে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়েছেন তাইজুল। যা তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ পাঁচ উইকেট। আর এই পারফরম্যান্সই ২৬ বছর বয়সী স্পিনারকে নিয়ে গেছে নতুন উচ্চতায়। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় স্পিনার হিসেবে টানা তিন ইনিংসে পাঁচ বা তার অধিক উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে এনামুল হক জুনিয়র, ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা তিন ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করেছিলেন সাকিব আল হাসান। গতকাল অগ্রজদের পাশে নাম লেখালেন তাইজুল।

এটি ছাড়াও বাঁহাতি এই স্পিনারের সামনে আছে দেশের হয়ে আরেকটি রেকর্ড দখলের। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৯ উইকেট রয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের। ২০১৬ সালে অভিষেকেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই পারফরম্যান্স ছিল মিরাজের। ১৮ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে এনামুল হক জুনিয়র। সিলেট টেস্টে ১১ উইকেট নেওয়া তাইজুলের এই সিরিজে শিকার সংখ্যা এখন ১৬। দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট পেলেই মিরাজকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি।

চোটের কারণে গোটা সিরিজেই নেই সাকিব। টেস্ট ক্রিকেটে স্পিন তথা বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে নেতৃত্বটা দেন তিনিই। অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের অনপুস্থিতিতে গুরুদায়িত্ব তাইজুলের ওপর। এবং বলা বাহুল্য, সাফল্যের সঙ্গেই সেই দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সিলেটে প্রথম ইনিংসে ৬টি, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫টি এবং গতকাল মিরপুরে আবারো ৫টি উইকেট নিয়েছেন এই স্পিনার।

দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাইজুলও জানিয়েছেন, সাকিবের অবর্তমানে দলের অর্পিত দায়িত্বটা বেশ উপভোগ করছেন। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘বাড়তি তৃপ্তি না, আমি অনেক বেশি বোলিং করার সুযোগ পাচ্ছি। সাকিব ভাই থাকলে হয়ত আমার ওপর এত দায়িত্ব পড়ত না। আমি উপভোগ করছি।’

মিরাজকে টপকে রেকর্ডটা গড়বেন বলেও আশাবাদী তাইজুল। বলেছেন, ‘আসলে উইকেটের অবস্থাটা এমন, যদি আমরা ডিসিপ্লিন বল করতে পারি তাহলে অসম্ভব কিছুই না। আমি আশাবাদী।’

তাইজুলের দায়িত্ব পালনের ছবি স্পষ্ট দুই টেস্টের স্কোরকার্ডেই। তিন ইনিংসে ১০৮ ওভার বোলিং করে ফেলেছেন তিনি। যার মধ্যে সিলেট টেস্টেই ৬৭.৭ ওভার বোলিং করেছেন। যেখানে দুই ইনিংসে ১৮২.৭ ওভার বোলিং করেছিল বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ৪০.৩ ওভার বোলিং করেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

স্পিন আক্রমণের নেতৃত্বে সাকিব থাকলেও ২০১৪ সালে অভিষেকের পর থেকে স্পিনার হিসেবে খুব বেশি পিছিয়ে নেই তাইজুল। ওই সেপ্টেম্বরে তার অভিষেকের পর ১৯ ম্যাচে সাকিব নিয়েছেন ৭৪ উইকেট। সমান ম্যাচে তাইজুলের শিকার ৬৯ উইকেট। যদিও গত দুই ম্যাচসহ ২১ ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ৮৫ উইকেট।

নিজের পারফরম্যান্সের সঙ্গে দলও মিরপুর টেস্টে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ তাইজুল দিন শেষে খুব খুশি। তার মনে তাই, টেস্টটা জয়ের আশাও প্রবল। সেটি বাস্তব করতে হলে বল হাতে আরেকবার তার ঘূর্ণি জাদু নিশ্চিতভাবে প্রয়োজন হবে বাংলাদেশের।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন