শিরোনাম :

মিরাজের শিকার রংপুর


সোমবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

মিরাজের শিকার রংপুর

ঢাকা: মাশরাফি বিন মুর্তজা, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) চারবারের শিরোপা জয়ী অধিনায়ক। এবারো তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেষ আসরের চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সকে। যে দলে আছেন টি-টোয়েন্টি দানব ক্রিস গেইল, অ্যালেক্স হেলসদের মতো তারকা ক্রিকেটার। অন্যদিকে ২২ বছর বয়সী মেহেদি হাসান মিরাজ এবারই বিপিএলে প্রথম নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার দল রাজশাহী কিংসে যেমন নেই বড় তারকা। তেমনি গোটা দলেই সব তরুণ মুখের ছড়াছড়ি। তাই দুই দলের লড়াইকে অসমই মনে হয়েছিল। কিন্তু সেই মিরাজের দলের কাছেই ধরাশায়ী হয়েছে মাশরাফির দল।

গতকাল বিপিএলে রংপুরকে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় ৫ রানে হারিয়েছে কিংসরা। আরো একবার প্রমাণ হলো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছোট-বড় দল বলে কিছুই নেই। শেষ ওভারে রংপুরের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৯ রান। হাতে তখনো ৪ উইকেট। বল হাতে এলেন দেশসেরা তরুণ পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। এই ম্যাচে একটি উইকেটও পাননি তিনি। শেষ ওভারেও পেলেন না। কিন্তু ঠিকই দলকে জয় এনে দিয়ে নিজের দিকে টেনে নিলেন সব আলো। ফিজের প্রথম বলে রুশো এক রান নেন। প্রান্ত বদলে আসেন ফরহাদ রেজা। কিন্তু টানা ৩ বলে তিনি ব্যাটই ছোঁয়াতে ব্যর্থ। যদিও ৫ম বলে বাই থেকে ১ রান আসে। আর শেষ বলে আসে মাত্র এক রান। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নরা হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে। অবশ্য ম্যাচসেরা হয়েছেন রাজশাহীর লড়াইয়ে অপরাজিত ৪২ রান করে ১৩৫ রানের পুঁজি এনে দেয়া তরুণ উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান জাকির হাসান। মিরপুরে টসে জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠান মাশরাফি। দলের ৩৩ রানের মধ্যেই ফিরে যান দুই ওপেনার। এশিয়া কাপে মাশরাফির নেতৃত্বে ওপেন করতে নেমে সফল হয়েছিলেন মিরাজ। এইবার বিপিএলে তাকে দেখা যাচ্ছে নিয়মিত টপ-অর্ডারে ব্যাট করতে। তবে সফল হতে পারেননি ফিরেছেন শূন্য রানেই। এরপর দলের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা মুমিনুল হক ১৬ রান করে আউট হন। এরপর সৌম্য সরকার ১৮, পাকিস্তানি তারকা মোহাম্মদ হাফিজ ২৬ রান করে বিদায় নেন। দলের হাল ধরে রাখেন শুধু জাকির। অন্যপ্রান্তে চলতে থাকে আসা যাওয়ার মিছিল। রায়ান টেন ডেসকাট শুধু ১৪ রান করে রানের পুঁজি কিছুটা বাড়াতে পেরেছেন। শেষ পর্যন্ত জাকির ৪২ রানে অপরাজিত থেকেছেন। ৩৬ বলের ইনিংসে হাঁকিয়েছেন ২ চার ও একটি ছয়ের মার। বলতে গেলে রংপুরের অধিনায়কের ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত ভুল হয়নি। কারণ প্রতিপক্ষের স্কোর বোর্ডে শেষ পর্যন্ত যোগ হয় ১৩৫ রান ৮ উইকেট হারিয়ে।

জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই সুবিধা করতে পারেনি রংপুর। প্রথম ওভারে মাত্র ২ রান আসে ১ উইকেট হারিয়ে। মিরাজকে ওপেন করতে দেখে চ্যালেঞ্জটা যেন নিয়েছেন রাইডার্স অধিনায়ক মাশরাফিও। কিন্তু ফলাফল তিনিও ফিরেছেন শূন্য-তে। তাও পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে। ক্রিস গেইল এই আসরে শুরু থেকেই হাত খুলতে ব্যর্থ। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে হাতে বল তুলে নেন মিরাজ। এই ওভারে একটি ছয়ের মার আসে তাও মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাট থেকে। কিন্তু পরের ওভারে রাব্বির ওপর ঝড় বইয়ে দেন ক্রিস গেইল। ২টি করে ছয় ও চার হাঁকিয়ে তুলে নেন ২০ রান। যদিও সেই ওভারের শেষ বলে রাব্বির দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। এরপর রুশো আর মিঠুনের ব্যাটে লড়াইয়ে ফিরে রংপুর। ৩১ বলে ৩০ রান করা মিঠুন আউট হলে ফের বিপদে পড়ে রংপুর। দলের হাল ধরতে এসে রবি বোপারা ২ ও অ্যালেকজান্ডার ক্যামেরন ৪ রান করে আউট হন। তবে নাহিদুল ইসলাম ১৬ রান করে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে আউট হন। এর পরই আসে রংপুরের জন্য দুঃস্বপ্নের শেষ ওভার। যেখানে মোস্তাফিজকে নায়ক বানিয়ে খল নায়ক হয়ে যান অলরাউন্ডার ফরহাদ রেজা। রুশো ৪৪ রানে অপরাজিত থাকলেও দল হারের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন