শিরোনাম :

টেস্টের অপেক্ষায় এবাদত


বুধবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

টেস্টের অপেক্ষায় এবাদত

ঢাকা: ইনজুরির মিছিল পেরিয়ে বিপিএল দিয়ে ছন্দে ফিরেছিলেন তাসকিন আহমেদ। সুযোগ পেয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড সফরের টেস্ট ও ওয়ানডে দলে। কিন্তু গত ১ ফেব্রুয়ারি ইনজুরিতে পড়ে দেড় মাসের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েন তাসকিন। তার বদলি হিসেবে দুই ফরম্যাটের জন্য দুজন পেসারকে দলে নিয়েছেন নির্বাচকরা।

গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, ওয়ানডে দলে তাসকিনের বদলি হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন শফিউল ইসলাম। আর টেস্ট দলে ডাকা হয়েছে এবাদত হোসেনকে। বাংলাদেশ জাতীয় দলে এটাই প্রথমবার সুযোগ পেলেন এবাদত। শফিউল সর্বশেষ জাতীয় দলে খেলেছেন ২০১৭ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। ওয়ানডে শেষবার তিনি খেলেছেন ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে।

টেস্ট দলে সুযোগ পেয়ে যারপরনাই খুশি এবাদত। সিলেট সিক্সার্সের হয়ে বিপিএলে খেলেছেন তিনি। দেশীয় পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতির পেসারও তিনি। এক ম্যাচে ১৪৭ কি.মির বেশি গতিতে বোলিং করেছিলেন। শেষ ম্যাচে ১৭ রানে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরাও হয়েছিলেন এই তরুণ পেসার।

বিপিএল শেষে নিজের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানায় চলে গেছেন এবাদত। গতকাল মুঠোফোনের অন্যপ্রান্তে উচ্ছ্বসিত এক তরুণের কণ্ঠই শোনা গেল। জাতীয় দলে আসার স্বপ্নপূরণ হয়েছে। এখন সুযোগ কাজে লাগাতে চান তিনি।

বলেছেন, মনপ্রাণে চেয়েছেন টেস্ট খেলতে। বিসিবির বোলিং কোচ চম্পকা রমানায়েকের পরামর্শে টেস্টের প্রতি মনোযোগী হয়েছেন। সাদা পোশাকের ক্রিকেটের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।

গতকাল নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এবাদত বলেছেন, ‘অবশ্যই ভালো। আমার আশা ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট যেহেতু ভালো করেছিলাম, হয়তো টেস্টে সুযোগ পাবো। আলহামদুলিল্লাহ টেস্টে সুযোগ পেয়েছি। এখন সুযোগটা কাজে লাগানো বড় বিষয়। চেষ্টা করবো আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে ভালো কিছু যাতে করতে পারি। খুব ভালো লাগছে। আমি চাই, আমি টেস্ট খেলি। আমার মানসিকতা আমি ওইভাবে তৈরি করেছি যে, আমি টেস্ট খেলবো।’

বিসিএলের শেষ আসরে ৫ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়েছিলেন এবাদত। এই পারফরম্যান্সই টেস্ট দলে তার সুযোগ পাওয়া ত্বরান্বিত করেছে। এইচপি ক্যাম্পে চম্পকা রমানায়েকের পরামর্শেই লাল বলের ক্রিকেটের প্রতি আকৃষ্ট হন এবাদত।

গতকাল তিনি বলেন, ‘আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছেন চম্পকা রমানায়েকে। উনি আমাকে প্রথমে দেখার পরই বলছে যে, ‘এবাদত তুমি ভালো একজন টেস্ট বোলার হতে পারবা, কারণ তোমার রিস্ট পজিশন, অ্যাকুরেসি ভালো আছে। তুমি যদি লাল বল নিয়ে কাজ করো তাহলে ভালো একজন টেস্ট বোলার হতে পারবা। উনারও টার্গেট ছিল। আমিও উনার কথা শুনে মানসিকতা তৈরি করেছিলাম। উৎসাহ পেয়েছি। আমি মানসিকভাবে তৈরি হয়েছি যে, আমি টেস্ট খেলতে চাই।’

২৫ বছর বয়সী এই ডানহাতি দীর্ঘদেহী পেসার ১৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৫৯ উইকেট নিয়েছেন। বিমানবাহিনীর চাকুরে হিসেবে ভলিবল খেলতেন একসময়। পেসার হান্টের মাধ্যমে ক্রিকেটে আসেন এবাদত। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে আসার জন্য বিমানবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিলেটের এই তরুণ।

তিনি বলেন, ‘বিমানবাহিনী থেকে আসা, শুধু বিমানবাহিনী কেন আমাদের সেনা, নৌ মানে স্বশস্ত্র বাহিনী থেকে জাতীয় ক্রিকেট খেলা কেউ নেই। আলহামদুলিল্লাহ, আমি প্রথমে ধন্যবাদ দিতে চাই আমাদের বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষকে। যারা আমাকে এত বড় একটা সুযোগ করে দিয়েছেন। ওনাদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।’

নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিতে চান এবাদত। দুই বছর আগে ডেভলপমেন্ট স্কোয়াডের অংশ হিসেবে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন এই তরুণ। তারপরের সময়টাতে বিসিবির এইচপি ক্যাম্পে বোলিং নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। এবার একাদশে সুযোগ পেলে নিউজিল্যান্ড সফরে বল হাতে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে চান এবাদত।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন