শিরোনাম :

টাইগারদের ইনজুরির কারণ!


শুক্রবার, ২ আগস্ট ২০১৯, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

টাইগারদের ইনজুরির কারণ!

ক্রীড়া: সারা বছরই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে থাকে কোনো না কোনো ইনজুরির খবর। বিশেষ করে গেল ক’বছর ধরে শুরু হয়েছে ইনজুরির মিছিল। বড় কোনো টুর্নামেন্ট হোক আর দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, সিনিয়র থেকে শুরু করে জুনিয়র কারো না কারো ইনজুরি দলকে বিপদে ফেলবেই। কিছুদিন আগেই শেষ হওয়া ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের কথাই ধরা যাক। আসর শুরুর আগে থেকেই অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, তমিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহীম, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ছিলেন ছোট-বড় ইনজুরিতে। বিশ্বকাপ শুরুর পর সেই ইনজুরিগুলো দলকে ভুগিয়েছে দারুণভাবে। প্রায় প্রতিটি ম্যাচের আগেই ছিল ইনজুরি নিয়ে নানা আলোচনা। এই ইনজুরির ধকল যে শুধু জাতীয় দলের ক্ষেত্রে তাও নয়।

নিয়মিত ইনজুরির হানা বয়সভিত্তিক থেকে শুরু হয়। তাই প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশে কেন এত ইনজুরির মিছিল! দক্ষ ফিজিও কিংবা চিকিৎসকের অভাব! না, এই বিষয়ে বেশির ভাগ সময় ক্রিকেটারদের অসচেতনতাকেই দায়ী করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী। সেই সঙ্গে তার দাবি, দেশীয় ফিজিওদের মান উন্নয়ন ও তাদের উপর ভরসা রাখার ক্ষেত্রেও। বলেন, ‘আসলে এত নিয়মিত ইনজুরির দায়টা ফিজিওদের উপর দিলে হবে না। এখানে যে সব বিদেশি ফিজিও আসেন তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ভুল হবে। আমার কাছে মনে হয়েছে ঘনঘন ইনজুরির জন্য ক্রিকেটারদের অসচেতনতাই বেশি দায়ী। আরেকটা বিষয় হলো বিদেশি ফিজিওদের সঙ্গে তাদের চাওয়া পাওয়াটাও ঠিকমতো পূরণ হয় না কালচারাল দূরত্বের কারণে।’

অন্যদিকে সব ক্রিকেটারইতো ইনজুরি আক্রান্ত হলে মনে প্রাণে চান ভালো হয়ে মাঠে ফিরতে। তাদের ইনজুরির সময় বেশ সিরিয়াসও দেখা যায়। তাহলে ইনজুরি নিয়ে ক্রিকেটারদের অসচেতনতা আসলে কোথায়! এ বিষয়ে দেবাশিষ চৌধুরী বলেন, ‘সবচেয়ে বড় যে বিষয় আমাদের দেশের ক্রিকেটাররা নিজের কি হয়েছে বা কোন ধরনের ইনজুরি সেটি জানতেই চান না। তারা চান সরাসরি সমাধান। কিন্তু এখানে ইনজুরি থেকে মুক্তির জন্য প্রতিটি ক্রিকেটারকেই জানতে হবে তার ইনজুরির ধরন। কারণ তা না জানলে সে নিজের যে কাজ তা করবেন কী করে! দেখা গেল ফিজিও, চিকিৎসকরা তাকে একটা রুটিন দিয়েছে কাজ করার। কিন্তু তার নিজের ধারণা না থাকার কারণে এমন কিছু করলেন যেটা তারই ক্ষতি হচ্ছে। আসলে এখানে যেমন ফিজিওকে দক্ষ হতে হয় তেমনি জানা ও বোঝার জন্য ক্রিকেটারদের কিছু জ্ঞান থাকতে হবে। সব ক্রিকেটার যে এমন তা আমি বলছি না। বেশির ভাগ ক্রিকেটারই ইনজুরি জ্ঞানের অভাবে ঘনঘন চোটে পড়েন। তারা তাড়াহুড়া করেন মাঠে ফিরতে। কেউ কেউ ছোট ছোট ইনজুরিকে পাত্তা দেন না। যা পরে বড় আকার ধারণ করে।
‘দেশি ফিজিওদের তৈরি
করতে হবে’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অনেক বিদেশি ফিজিও নিয়ে এসেছেন জাতীয় দলের জন্য। কিন্তু প্রায় সবাই বিদায় নিয়েছেন নানা অভিযোগ নিয়ে। সবশেষ ফিজিও থিহান চন্দ্রমোহনের বিরুদ্ধেও আছে অভিযোগ। এ নিয়ে দেবাশিষ চৌধুরী বলেন, ‘আমি অভিযোগ বলতে রাজি নই। তার কাজেতো আমরা খারাপ কিছু দেখিনি। হ্যাঁ, এটা হতে পারে তার সঙ্গে ক্রিকেটারদের বোঝা-পড়ার একটা দূরত্ব ছিল। এটা থাকা অস্বাভাবিক নয়। এখানে আমাদের যা করতে হবে তা হলো দেশি ফিজিওদের তৈরি করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আমাদের এখানে অনেক ভালো ফিজিও আছেন, তাদের উপর ভরসা রাখতে হবে। একটা ট্যুরে একজন বিদেশি ফিজিওকে না পাঠিয়ে দেশিদের পাঠালে ক্ষতি কি? তারাইতো সারা বছর ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করে। জাতীয় দল ছাড়া আর সব জায়গাতেই দেশি ফিজিওদের উপর নির্ভর করতে হয়। তাহলে জাতীয় দলে কেন নয়? তাই বলে আমি বলবো না যে বিদেশি ফিজিওর দরকার নেই। কারণ তারা আসলে আমাদের ছেলেরা কাজ শিখতে হবে। সেই ক্ষেত্রে তাদের একাডেমিতে রাখা হোক। বা সেন্ট্রালি রাখা হোক, যিনি সারা বছর সব কিছু দেখবেন। আমরাও তার কাছে প্রয়োজনে যাবো। এর সঙ্গে উপকরণও আধুনিক করতে হবে। শুধু বিদেশি ফিজিও আনলেই হবে না, তার কাজ করার জন্য সময়োপযোগী আধুনিক সব কিছুও দিতে হবে।’

মাশরাফির পরীক্ষা রোববার
ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বিশ্বকাপ থেকে ফিরে আর মাঠে নামতে পারেননি ইনজুরির কারণে। তার হ্যামস্ট্রিংয়ে পুরানো ইনজুরিই ফের দেখা দিয়েছে। যে কারণে তাকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে তিন সপ্তাহের জন্য। তাকে নিয়ে দেবাশিষ চৌধুরী বলেন, ‘মাশরাফির ইনজুরিটা পুরানো। আসলে এই ধরনের ইনজুরি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়। যে কারণে তাকে আমরা তিন সপ্তাহের বিশ্রাম দিয়েছি। আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। তেমন বড় কোনো সমস্য এখন সে অনুভব করছে না। রোববার তাকে আমরা আসতে বলেছি, পরীক্ষা করে দেখবো। যদি ব্যথা না থাকে তাহলে ভালো। আমরা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করবো। আর ব্যথা থাকলে অন্য চিন্তা করতে হবে।’

ঝুঁকি নিচ্ছেন মাহমুদুল্লাহ
ভালো আছেন সাইফুদ্দিন
বিশ্বকাপের আগে থেকেই ইনজুরিতে রয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কাঁধের ইনজুরির কারণে বল করাও বন্ধ এই অলরাউন্ডারের। এখন কাফ ইনজুরিতেও ভুগছেন। এই নিয়ে আয়ারল্যান্ড সিরিজ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ এমনকি সব শেষ শ্রীলঙ্কা সফরেও খেলেছেন। এমন ইনজুরি নিয়ে টানা খেলাকে ঝুঁকিপূর্ণই মনে করেন বিসিবির চিকিৎসক। তিনি বলেন, ‘ইনজুরি নিয়ে টানা খেলাতে ঝুঁকিতো থাকবেই। কাঁধে ইনজুরির জন্য যদিও বল করছে না। কিন্তু অন্যান্য ইনজুরিতো আছে। তবে এটি ক্রিকেটার নিজেই ভালো বোঝেন তার অবস্থা কেমন। এখন আমরা সে দেশে ফিরে আসলে দেখবো। পরীক্ষাগুলো করাবো। এরপর ওর জন্য যেটা করণীয় সেটা ঠিক করে দিবো। সাইফুদ্দিন দিন দিন উন্নতি করছে। ওকে নিজের কাজগুলো নিয়ম মতো করতে হবে। তাহলে দ্রুত ভালো হয়ে যাবে।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন