শিরোনাম :

দারুণ খুশি ডমিঙ্গো


বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ০৪:২৫ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

দারুণ খুশি ডমিঙ্গো

ক্রীড়া: গেল ৮ বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে এসেছে ৬ প্রধান কোচ। কিন্তু কেউ নিজেদের মেয়াদ শেষ করে যেতে পারেননি। অনেকে বিদায় নিয়েছেন ভীষণ তিক্ততা নিয়ে। সবশেষ শেষ দুই কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও স্টিভ রোডসের বিদায়ের স্মৃতি তরতাজা টাইগারদের ক্রিকেটে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের ১৩তম প্রধান কোচ হিসেবে গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছেন রাসেল ক্রেগ ডমিঙ্গো। বিসিবির আশা অন্যদের মত হবে না ডমিঙ্গোর পরিণতি। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটে লম্বা সময় ধরে কাজ করবেন বলে বিশ্বাস তাদের। দক্ষিণ আফ্রিকার কোচের কাছেও এখন অন্যতম চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সঙ্গে মানিয়ে সামনে এগিয়ে চলা। এ নিয়ে শুরুতেই প্রধান কোচ বলেন, ‘আমরা এখানে দুনিয়া বদলে দিতে আসিনি। সব সময়ই জানি, উপমহাদেশে ক্রিকেটটা কীভাবে খেলা হয়ে আসছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আমাদের মতো করে তোলার আশা আমরা করতে পারি না। আমাদেরই এখানকার ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।’ আগের দিন ঢাকায় পা রাখেন রাসেল ডমিঙ্গো, গতকালই চলে আসেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। সকালে শিষ্যদের সঙ্গে সারেন পরিচয় পর্ব। এরপর বিসিবির কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সেরে আসেন সংবাদ সম্মেলনে। প্রেস কনফারেন্সে এসে নিজের বিস্ময় লুকিয়ে রাখতে পারেনি ডমিঙ্গো। এত এত সংবাদকর্মী দেখে সত্যি অবাক হয়েছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান। তার সঙ্গে এসেছেন নয়া বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্টও।

যে ভাবে শুরু করবেন
নিজেকে বদলে বাংলাদেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার মিশনে কীভাবে শুরু করবেন প্রধান কোচ ডমিঙ্গো? টাইগারদের নিয়ে পরিকল্পনা করেই যে বাংলাদেশে এসেছেন তা স্পষ্ট হলো তার পরিকল্পনা শুনে। ডমিঙ্গো বলেন, ‘আমার প্রথম লক্ষ্য ক্রিকেটারদের কাছাকাছি যাওয়া এবং সামনের এক বা দুই সপ্তাহে তাদের সম্পর্কে জানা, সম্পর্ক তৈরি করা। আমি মনে করি এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চেষ্টা করবো তাদের আস্থা অর্জনের জন্য। প্রথমত, দেখবো কীভাবে তারা তাদের কাজ করে এবং সেখান থেকেও কিছু জানার চেষ্টা করবো।’ দায়িত্ব নিতে পেরে দারুণ খুশি এই কোচ। যেমনটি বিসিবি চেয়ে ছিল আফগান সিরিজের আগে দায়িত্ব নিবেন কোচ। তেমনিই চুক্তি হতেই দায়িত্ব নিতে কাল ক্ষেপণ করেননি তিনি। কতটা মুখিয়ে ছিলেন তা জানা নিজেই, ‘সত্যিই ভালো লাগছে। আমি সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠেছি। মাঠে আসতে ২০ মিনিট সময় লেগেছে। সকালে কিছু ক্রিকেটারের সঙ্গে দেখা হয়েছে। অনেকেই ক্যাম্পে নেই। মারিও (ফিটনেস কোচ) কয়েকদিন ধরে ছেলেদের নিয়ে কাজ করেছে। এতো সকালে ছেলেদের পরিশ্রম করতে দেখে ভালো লেগেছে। এখনো দ্বিতীয় সেশন চলছে। তাদের সঙ্গে কাজ শুরু করতে পেরে ভালো লাগছে।’
উন্নয়নের পরিকল্পনা
বেশ কয়েকজন হাইপ্রোফাইল কোচের মধ্য থেকে ডমিঙ্গোকে বেছে নেয়ার কারণ ছিল তার উপস্থাপন। সোজা বাংলায় টাইগারদের নিয়ে তার কর্ম পরিকল্পনা। ডমিঙ্গোর লম্বা সময় কাজ করার ইচ্ছা, ও ক্রিকেট নিয়ে তার প্যাশন বিসিবি কর্তাদের মন জয় করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটেকে কীভাবে সামনে নেয়ার ব্যাপারে তার প্রেজেন্টেশন কী ছিল, সে বিষয়ে ডমিঙ্গো বলেন, ‘এটা সত্যিই অদ্ভুত। প্রত্যেকেই এ ব্যাপারে (প্রেজেন্টেশন) জানতে চাইছে। দেখুন, যেহেতু আমি বিভিন্ন স্তরে দলের সঙ্গে কাজ করেছি। বয়সভিত্তিক দল থেকে শুরু করে, ঘরোয়া ক্রিকেট, আন্তর্জাতিক সব অভিজ্ঞতা আছে। আমি জানি কীভাবে কোন পদ্ধতি কাজ করে। সত্যি বলতে আমি কোচিংয়ের পদ্ধতির ব্যাপারে খুবই সচেতন। আমি মনে করি এটা জাতীয় দলকে গুরুত্ব দিয়েই করতে হবে। সত্যি বলতে প্রেজেন্টেশনটি ছিল- কী করে জাতীয় দলের প্লেয়ারদের আরও উন্নতি করা যায় এবং একটি টেকসই উন্নয়নের পথে দলকে নিয়ে যাওয়া যায়। আশা করি এ ব্যাপারে আমি বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবো।’
চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা
উপমহাদেশের কোচ হিসেবে যে কঠিন চাপ তা কীভাবে সামলাবেন ডমিঙ্গো? জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ বলেন, ‘আমি ৫ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হিসেবে কাজ করেছি। সেখানেও বিপুল প্রত্যাশা ছিল। বাংলাদেশেও তাই। তবে আমি রোমাঞ্চিত। প্রত্যাশার চাপ নিতে আমি অভ্যস্ত। গত দুই বছর ধরে ওদের (দক্ষিণ আফ্রিকা) মূল দলের সঙ্গে ছিলাম না। এ দল নিয়ে কাজ করেছি। কোচ হিসেবে আমি সব সময়ই চাপ উপভোগ করি। আমরা যদি আগেই জেনে যাই যে আমরা সব ম্যাচ জিতবো, তাহলে সেটা হবে দুনিয়ার সবচেয়ে বিরক্তিকর কাজ। চাপ ও চ্যালেঞ্জের সঙ্গে উপভোগের বিষয়টিও জড়িত।’

এত সাংবাদিক দেখে অবাক ডমিঙ্গো
সকালে মুখে চওড়া হাসি নিয়ে রাসেল ডমিঙ্গো প্রবেশ করলেন বিসিবির সংবাদ সম্মেলন কক্ষে। বার বার চোখ তুলে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ দেখছিলেন আর হাসছিলেন। সঙ্গে থাকা স্বদেশি সহকর্মী বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্টকে হেসে হেসে কিছু একটা বলছিলেন। কী বলছিলেন তা কিছুক্ষণ পরেই জানা গেল। পাশে থাকা বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমামকে বলেন, “মাই গুডনেস...এত লোক!’ পরক্ষণেই ডমিঙ্গো জানালেন, বাংলাদেশের দায়িত্ব নেয়ার অন্যতম কারণ ক্রিকেটের প্রতি এদেশের মানুষের আবেগ। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় কোনো বড় ম্যাচের আগেও সংবাদ সম্মেলনে হয়তো ৮-৯ জন রিপোর্টার দেখা যায়। এখানে আজকে যত লোক, আমি জীবনেও এত রিপোর্টার দেখিনি। গতকালকে বিমানবন্দরে মনে হয় শ’খানেক রিপোর্টার ছিল। পুলিশকে গিয়ে সামলাতে হয়েছে। পাগলাটে ব্যাপার-স্যাপার। এখানে ক্রিকেটের প্রতি এই আবেগই আমাকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করে। ক্রিকেটের তুমুল জোয়ার এখানে। এটিই আমাকে বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে। এছাড়াও ক্রিকেটে এই নিয়ে আমি বাংলাদেশে সপ্তমবার এলাম। প্রথমবার এসেছিলাম সেই ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে (কোচ হিসেবে)। প্রথম যে ব্যাপারটি আমাকে স্পর্শ করেছে, বাংলাদেশে ক্রিকেট নিয়ে মানুষের তীব্র আগ্রহ।
আজকে এখানে যেমন দেখা যাচ্ছে।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন