শিরোনাম :

মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শোনা গেছে


শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০১৭, ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শোনা গেছে

মৌলভীবাজা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট এলাকার ‘জঙ্গি আস্তানা’র কাছ থেকে কয়েক দফা মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শোনা গেছে। একাধিক বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজও পাওয়া গেছে।

জঙ্গি আস্তানাটিতে শুক্রবার সকালে শুরু হওয়া ‘অপারেশন মেক্সিমাস’ চলাকালে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে টানা গুলি শুরু হয়। ১২টা ১০,১২টা ৩৫ ও ১২টা ৫০ মিনিটে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে শোনা যায়। পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের মধ্যেই মুহুর্মুহু গুলির শব্দ কানে আসে। দুপুর ১২টা ৫২ মিনিটে অভিযানস্থল থেকে পুলিশের এক সদস্যকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

এর আগে বেলা ১১ টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট এলাকার জঙ্গি আস্তানার পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল জানিয়ে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, অভিযান শুরু হয়েছে। জঙ্গি আস্তানায় প্রচুর বিস্ফোরক রয়েছে। আর এর আশপাশে অনেক উঁচু ভবন রয়েছে। ফলে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শেষ হতে সময় লাগবে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ভেতরে একাধিক জঙ্গি অবস্থান করছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তাদের সাথে বিস্ফোরক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কোনো জঙ্গিও রয়েছে। এছাড়া আস্তানায় কক্ষগুলোতে বিস্ফোরক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতেও তারা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। গুলি ছুড়েছে।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে সোয়াট ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কিছু সময় পর অভিযান শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট অভিযানে সহায়তা করছে। এরপর থেকে ওই এলাকায় থেমে থেমে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার দিকেও শহরের আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসার গলিতে দোতলা বাড়িটির আশপাশ থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়।

ওই জঙ্গি আস্তানার আশপাশের এলাকায় গত বুধবার থেকেই ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। বন্ধ রয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. শাহজালাল বড়হাট এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয়দের সরিয়ে দেয়ার কাজ তদারকি করছেন। সাংবাদিকরাও যেন জটলা বেঁধে এ এলাকায় দাঁড়িয়ে না থাকেন সে জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে তারা মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসা গলিতে দোতলা বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা হিসেবে সনাক্ত করে ঘিরে রাখেন। ওই বাড়ি ঘিরে রাখার পর সেখানকার তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বুধবার ভোরে শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে নাসিরপুর গ্রামের জঙ্গি আস্তানাটি সনাক্ত করা হয়।

প্রায় ৩৪ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর বৃহস্পতিবার নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে ‘ছিন্নভিন্ন সাত থেকে আটজনের লাশের অংশ’ পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। পুলিশের ধারণা, বুধবার বিকেলেই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা নিহত হয়। তারা একই পরিবারের সদস্য।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন