শিরোনাম :

ঝুঁকিতে নৌপথ, ঈদে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা


শুক্রবার, ১৬ জুন ২০১৭, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ঝুঁকিতে নৌপথ, ঈদে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা

ডেস্ক প্রতিবেদন: আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তারপরই মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। আর এই ঈদের খুশি পরিবার পরিজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে নগরবাসীর একটি বৃহত্তম অংশই নদীর তীব্র স্রোত, নাব্য সংকট আর ফিটনেসবিহীন নৌযান এসব বিষয় মাথায় নিয়েই নাড়ীর টানে ঢাকা ছাড়বেন নৌপথে।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মাওয়া-কাওড়াকান্দিসহ সব রুট হয়ে দেশের ২১টি জেলার প্রায় ৫০ লাখেরও অধিক ঘরমুখি মানুষ ব্যবহার করবে এই নৌপথ। অন্যান্য বারের চেয়ে এ বছর নদীতে পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় এবং স্রোতের কারণে বয়া বাতি বা সিগনাল বাতিগুলো সরে যাওয়ায় চিন্তিত লঞ্চ মালিকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্রোতের কারণে সরে যাওয়া বয়া বাতি বা সিগনাল বাতিগুলো দ্রুত নির্ধারিত জায়গায় সরিয়ে না আনলে ঈদে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। দেশের বেশির ভাগ নদীতে বর্তমান সময়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় এই পথ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

তারা আরও বলছেন, ঈদে যাত্রী চাপ বাড়ার আগেই নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের এখনই উচিত নৌপথে যে সমস্যা গুলো রয়েছে তার সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিইটিএর কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, খুব শিগগিরই ঝুঁকিপূর্ণ সব নৌপথের চ্যানেলে আধুনিক প্রযুক্তির সরঞ্জাম বসানো হবে। এছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে সদরঘাট টার্মিনালও মেরামত করা হয়েছে। ঈদ যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে ঈদের আগেই যে লঞ্চগুলো পানিতে ভাসাতে বুড়িগঙ্গা তীরের ডকগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের ঝালাইয়ের কাজ। দ্রুত কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি, অধিকাংশ যাত্রী পরছেন না লাইফ জ্যাকেট। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলছে স্পিডবোট। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে লঞ্চ ও স্পিডবোট মালিকরা যাত্রী নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আনছে না। তাই দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান না করা গেলে বা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ঈদে ঘটতে পারে বড় কোন দুর্ঘটনা।

যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে নৌপথে চলতি বছরে কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে না। সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের মনে রাখতে হবে, সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। কাউকে বাদ দিয়ে কখনো সফলতা পাওয়া যাবে না।

তিনি আরো বলেন, এখন থেকেই রাতে আর কোনো স্পিডবোর্ড চলবে না। জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে নজরদারি আরো বাড়াতে হবে। কেননা এখন আবহাওয়া ভালো না। স্পিডবোর্ড যে দ্রুততার সঙ্গে চলে তাতে একটি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া ঈদের সময় লঞ্চে বেশি ভাড়া নেওয়া যাবে না। নদী পথেও নৌকা করে কোনো যাত্রী তোলা যাবে না। এ বিষয়ে নৌ-পুলিশদের বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

নদী পথে একটু ভুলের জন্য বড় বিপদ হতে পারে উল্লেখ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায় বলেন, ঈদের সময় সবাই বাড়িতে যাবে, আর এই সুযোগটি কাজে লাগানোর চেষ্টাকরে একটি চক্র। এই চক্রের কারণে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হন। এবার যাতে কোনো যাত্রী হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নজরদারি রাখতে হবে এবং কোনো গাফিলতি হলে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন