শিরোনাম :
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন

স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে মিয়ানমারের প্রতি ৪০ দেশের কুটনীতিকদের আহবান


বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৫:৩৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে মিয়ানমারের প্রতি ৪০ দেশের কুটনীতিকদের আহবান

ইমাম খাইর, কক্সবাজার: নিরীহ রোহিঙ্গা নাগরিকদের হত্যা, জালাও-পোড়াও বন্ধ করে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আবহান করেছেন ব্রিটেন, চীন ও ভারতসহ ৪০টি দেশের প্রতিনিধিরা।

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তারা সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুতুপালং নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পে পৌঁছান কূটনীতিকরা। এরপর ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লক ঘুরে দেখেন এবং রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বর্ণনা শোনেন।পরিদর্শন শেষে তারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

সাংবাদিকদের সামনে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে তারা বলেন, ‘একসঙ্গে এত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য সত্যিই বাংলাদেশ প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা আন্তরিকভাবে এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিম-লে তুলে ধরবো। মিয়ানমার সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাবো, এই হামলা বন্ধ করে তারা যেন স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনে ও রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়। রোহিঙ্গাদের এই পরিস্থিতিতে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’


এর আগে বুধবার সকাল ১১টার দিকে ৪০ দেশের রাষ্ট্রদূত, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদল কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন। এসময় তাদের অভ্যর্থনা জানান কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল। পরে সড়ক পথে তারা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান।

এসময় বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মোহাম্মদ আলী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব দিয়ে নিরাপদে বসবাস করার সুযোগ করে দিতে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ দেওয়ার একটি প্রস্তাব বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগষ্ট রাতে মিয়ানমারের কয়েকটি সেনা ও পুলিশের চৌকিতে রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের হামলার অভিযোগে আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন শুরু করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। হত্যা, ধর্ষণের পাশাপাশি গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই অব¯’ায় গত দু’সপ্তাহে অন্তত সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সঙ্কট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট।

৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।

সেনাবাহিনীর ওই হামলায় এখনও পর্যন্ত ৪শ’র বেশি মানুষ মারা গেছে, আর প্রাণভয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পাড়ি জমা”েছ বাংলাদেশে। নৌপথে পালিয়ে আসার পথে নৌকাডুবিতেও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এই শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বার বার আহ্বান জানানো হলেও মিয়ানমার তাতে সাড়া দেয়নি। রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতেও তারা রাজি নয়।

রোহিঙ্গাদের এই স্রোত ঠেকাতে মিয়ানমারে জাতিসংঘের মতো কোনো একটি আন্তর্জাতিক সং¯’ার তত্ত্বাবধানে একাধিক নিরাপদ এলাকা (সেইফ জোন) গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। এছাড়া সীমান্তে যৌথ টহলেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। কিš‘ কোনো প্রস্তাবেই মিয়ানমারের সাড়া মেলেনি।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন না করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই হত্যাকা- শুরু করে।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন