শিরোনাম :

তিন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি


শুক্রবার, ৬ জুলাই ২০১৮, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

তিন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

ডেস্ক প্রতিবেদন: সারা দেশের মধ্যে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়ে পড়েছে। এতে পানিবন্দি প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। এদিকে ব্রহ্মপুত্র, সুরমা ও দুধকুমারসহ প্রায় ১৫টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আরও ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমারসহ প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব নদীর অববাহিকায় ২৫টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার।পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রে ৩৫ ও দুধকুমারে ৩২, ধরলায় ৪৬ ও তিস্তায় ২৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সদর উপজেলার হলোখানার সারোডোব এলাকায় মেরামত করা একটি বাঁধ ভেঙে চারটি ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে দুইটি স্থানে মেরামত করা বাঁধ ও একটি বাঁশের পাইলিংসহ ১০টি পরিবারের ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রাজারহাট উপজেলার কালুয়ারচর এলাকায় মেরামত করা বাঁধটি ভেঙে যাবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলাকাবাসী বালুর বস্তা ফেলে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, রাতে তিনি নিজে থেকে বাঁধ রক্ষার কাজ তদারক করেছেন।এই বাঁধটি ভেঙে গত বছরের বন্যায় কুড়িগ্রাম-রংপুর সড়কসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন জানান, বন্যা মোকাবেলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট: টানা বর্ষণ আর ভারত থেকে পাহাড়ি ঢল আসায় লালমনিরহাটে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে আরও নতুন নতুন চর।হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী এলাকায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে শুক্রবার সকাল ছয়টায় বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে তিস্তা ব্যারেজ কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে। এতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলের ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ।

বন্যার পানিতে বাড়ি-ঘর ও রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন লালমনিরহাটের তিস্তা ও ধরলা পারের মানুষ। বিশেষ করে দহগ্রামের চর, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, ধুবনী, সির্ন্দুনা, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, কালিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম কাশিরাম, চর বৈরাতী, নোহালী চর, শৈলমারী চর, ভোটমারী চর, হাজিরহাট চর, আমিনগঞ্জ চর, কাঞ্চনশ্বর চর ও রুদ্ধেশ্বর চর, আদিতমারী উপজেলার চণ্ডিমারী, দক্ষিণ বালাপাড়া, আরাজি ছালপাক, চরগোবর্ধন, ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার কালমাটি, খুনিয়াগাছা, রাজপুর, তিস্তা, গোকুন্ডা, মোগলহাটসহ তিস্তা-ধরলা নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।নয় ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে অন্তত পাঁজ হাজার মানুষ। বানের পানির নিচে তলিয়ে গেছে আমন বীজতলা, ভুট্টা, পাট, সবজি ক্ষেতসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষেত। এসব এলাকার মানুষজন নিজেদের চেয়ে গৃহপালিত গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগী পালন নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে।

এদিকে জেলার প্রধান দুই নদী তিস্তা ধরলাসহ ১২টি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় লোকজন। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে অবস্থিত দেশের সর্ব বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো গেট খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড।জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতির নিয়মিত খবর নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য জরুরিভাবে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

এদিকে জেলার প্রধান দুই নদী তিস্তা ও ধরলাসহ ১২টি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আরও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় লোকজন।

সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর হালকা মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাতে জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপরে রয়েছে।পানি বৃদ্ধি হওয়ায় এরইমধ্যে প্লাবিত হওয়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে জেলার সমতল ও নিম্নাঞ্চল। গেল চার দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে শহরের তেঘরিয়া, নবীনগর ও নতুনবাজার এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পানি প্রবেশ করেছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে।

ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট। বৃষ্টির মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুরমা নদীর তীরবর্তী জনবসতিগুলো এখন সম্পূর্ণরূপে হুমকির সম্মুখীন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আবহাওয়া অফিস, গেল ২৪ ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। গেল বুধবার বেলা তিনটায় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, পাহাড়ি ঢল ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৪ ঘণ্টা থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত শহরের নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যাকবলিত হয়ে পড়তে পারে জেলার নিম্নাঞ্চল। ফলে দেখা দিতে পারে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটসহ নানান পানিবাহিত রোগ।এদিকে সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম জানান শুকনো খাবারসহ বন্যা মোকাবেলার সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনকে বন্যা মোকাবেলায় সর্তক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঝড়ের সময় নৌযান পারাপারে সর্তক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস জানান বন্যা মোকাবেলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন