শিরোনাম :
   ১০টি ভবনের নকশা অনুমোদন দিল কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ    গণমানুষের সংগঠনে রূপান্তর করতে মাঠে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ুন    উসমানের বোলিং তোপে ব্যাটিং বিপর্যয়ে শ্রীলঙ্কা    গৌরনদী ‍উপজেলায় শিক্ষার্থীদের হাত ধোঁয়া প্রদর্শন    বরিশালে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানী    শেষ হলো ইলিশ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা    উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু    বরিশালে জেলা আ. লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত    স্তন কর্তন, ধর্ষণ লজ্জাস্থানে কাঠ গুঁজে রোহিঙ্গা নারীদের রোমহর্ষক নির্যাতন     কিশোর বাতায়ন, এইচ ডি মিডিয়া ক্লাব ও বরিশাল ব্র্যান্ডিং বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন

বরিশালে ইয়াবা খাইয়ে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ, তিন আসামির স্বীকারোক্তি


বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট ২০১৭, ০৫:৫৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বরিশালে ইয়াবা খাইয়ে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ, তিন আসামির স্বীকারোক্তি

বরিশাল প্রতিনিধি: কৌশলে স্কুল ছাত্রীকে ইয়াবা খাওয়ানোর পর বেশামাল হয়ে পরে দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী। পরে বন্ধু কাওসার হোসেন ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পুলিশ রিমান্ড শেষে এমনই স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে ধর্ষণের সহায়তাকারী অন্যতম আসামি দীপক জয়ধর ও তার স্ত্রী এবং মা।

চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্তকারী অফিসার জেলার আগৈলঝাড়া থানার এসআই শাহজাহান বলেন, আদালতের নির্দেশে দুইদিনের রিমান্ডে দীপক ঘটনার সবকথা অকপটে স্বীকার করার পর বুধবার বিকেলে তাকে আদালতে সোর্পদ করা হয়।

বরিশাল অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শিহাবুল ইসলামের আদালতেও দীপক স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। এরআগে দীপকের মা পুস্প রানী ও স্ত্রী কচি রানীকেও জেল গেটে দুইদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারাও ঘটনার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার অন্যতম আসামী দীপক জয়ধর তার মা পুস্প জয়ধর ও স্ত্রী কচি জয়ধর বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। দীপক আগৈলঝাড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের দ্বীজেন জয়ধরের পুত্র।

সূত্রমতে, দীপকের বাহাদুরপুর গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী তাপস শীলের সাথে ঘটনারদিন রাতে মাদকের ক্রেতা হিসেবে দীপকের বাড়িতে অবস্থান নেয় গৌরনদী পৌর এলাকার কসবা মহল্লার কুদ্দুস ফকিরের পুত্র কাওসার ফকির। তাপস টরকী বন্দরে সেলুন ব্যবসার আড়ালে এলাকার দীপকসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পাইকারী মাদক বিক্রি করে আসছিলো। সেলুন ব্যবসার সুবাদে কাওসারের সাথে তাপসের সখ্যতা গড়ে ওঠে। দীপকের পরিবারের সদস্যরাও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে দীপকের স্ত্রীও দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত।

সূত্রে আরও জানা গেছে, তাপসের সাথে সখ্যতার সূত্রধরে ঘটনারদিন ২৯ জুলাই রাতে ধর্ষণের শিকার হওয়া দীপকের বাড়ির প্রতিবেশী স্কুল ছাত্রীকে রাত ১১টার দিকে দীপকের স্ত্রী কচি রানী ফোন করে দীপকের ঘরে ডেকে নিয়ে আসে। সেখানে কৌশলে ওই স্কুল ছাত্রীকে ইয়াবা খাওয়ানো হয়। ইয়াবা খেয়ে ওই ছাত্রী বেশামাল হয়ে পরার পর ঘর থেকে সবাই বের হয়ে যায়। এ সুযোগে কাওসার ফকির ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ধর্ষিতার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দীপক তার মা ও স্ত্রীকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।

এসময় কৌশলে তাপস শীল, তার বন্ধু গৌরনদীর নন্দনপট্টি গ্রামের শফি মৃধার পুত্র সেন্টু মৃধা ও আরেক বন্ধু ধর্ষক কাওসার ফকির পালিয়ে যায়।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ধর্ষিতা ওই ছাত্রী বাহাদুপুর গ্রামের তার মামা বাড়িতে থেকে বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো। তার বাড়ি পাশ্ববর্তী কোটালীপাড়া উপজেলার জহরেরকান্দি গ্রামে।

থানার এএসআই মিন্টু লাল হীরা জানান, ওইরাতে স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষিতাকে উদ্ধারসহ ধর্ষণের সহায়তাকারী দীপক জয়ধর, তার মা পুস্প জয়ধর ও স্ত্রী কচি জয়ধরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। ঘটনার পরেরদিন ৩০ জুলাই ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন (যার নং-১১/৩০-৭-১৭)।

এসএ

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন