শিরোনাম :

হালুয়াঘাটে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ওসির বিরদ্ধে তদন্তের নির্দেশ


রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৭:২৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

হালুয়াঘাটে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ওসির বিরদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

ডেস্ক প্রতিবেদন: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানায় এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়েরের পর এক পুলিশ কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম আজ রোববার দুপুরে হালুয়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেনকে ঘটনা তদন্ত করে ১০ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম (প্রশাসন) এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগকারীকে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা তদন্ত করে সত্যতা বের করা হবে।

হালুয়াঘাটের ওই নারী (৪০) অভিযোগ করে বলেন, তিনি পেশায় একজন দর্জি। তাঁর তিন ছেলে। গত ১১ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে তাঁকে আটক করে হালুয়াঘাট থানার পুলিশ। আটকের সময় তাঁকে মারধর করে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়। থানায় নিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম। টাকা না পেয়ে রাত ৩টার দিকে ওসির কক্ষে নিয়ে বিবস্ত্র করে তাঁকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এভাবে রাত হলেই লাগাতার পেটানো হতো তাঁকে। ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। নির্যাতনের যন্ত্রণায় অচেতন হয়ে পড়ায় তাঁকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

ওই নারী বলেন, কারাভোগের সময় তাঁর নামে হালুয়াঘাট থানায় তিনটি ও ফুলপুর থানায় দুইটিসহ গরু চুরির পাঁচটি মামলা রুজু করা হয়। এই সব মামলায় মদদ দিয়েছেন ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ওয়াছির উদ্দিন সুমন। গত ইউপি নির্বাচনে সুমনের পক্ষে কাজ না করায় তিনি পুলিশ দিয়ে তাঁকে ফাঁসিয়েছে।

গত ৪ ডিসেম্বর জামিনে মুক্ত হন ওই নারী। ২১ ডিসেম্বর এসব অভিযোগে এনে হালুয়াঘাট থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম, ধুরাইল ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াছির উদ্দিন সুমন, হাতেম আলী, নজরুল ইসলাম, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হাফিজ আল আসাদের আদালতে মামলা করেন। ২৭ ডিসেম্বর আদালত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন।


আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম আজ দুপুরে ১০ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য হালুয়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো আলমগীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ওই নারী অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে তাঁকে পুলিশ ও চেয়ারম্যান হুমকি দিচ্ছেন। এ কারণে পরিবারসহ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। ছেলেদের পড়াশুনা বন্ধ রয়েছে। তিনি ন্যায়বিচার চান।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ধুরাইল ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াছির উদ্দিন সুমন বলেন, এলাকায় গরু চুরির পর গ্রামবাসী বাড়িতে গিয়ে গরুসহ ওই নারীকে আটক করেন। পরে তিনি (সুমন) পুলিশকে খবর দেন।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ওই নারী সংঘবদ্ধ গরু চোর দলের সদস্য। তার নামে হালুয়াঘাট ও ফুলপুর থানায় ক্ষতিগ্রস্ত গরুর মালিকরা পাঁচটি মামলা করেছেন। ওই নারীর বাড়ি থেকে চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়েছে। মামলাগুলোয় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ওই নারীকে গ্রেপ্তারের পর থেকে হালুয়াঘাটে গরু চুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এসব মামলা থেকে বাঁচতেই তাঁকে নামে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলা করা হয়েছে। নির্যাতনের অভিযোগ সত্য নয়।

এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নূর-ই-আলম বলেন, মামলার বাদীকে নির্যাতন করা হয়েছে কি না তদন্ত করে সত্যতা বের করা হবে। সূত্র: এনটিভি অনলাইন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন