শিরোনাম :

শীতে বাড়ছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা


শুক্রবার, ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৫০ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

শীতে বাড়ছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা

ডেস্ক প্রতিবেদন: চলমান শৈত্যপ্রবাহের কারণে রাজধানীসহ সারা দেশে বেড়েছে নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়ার প্রকোপ।নিউমোনিয়া আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু।

ঢাকা শিশু হাসপাতাল এবং আইসিডিডিআরবি থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

গত সোমবার সারাদেশের তাপমাত্রা নেমে আসে ইতিহাসের সর্বনিম্ম পর্যায়ে। উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এদিন সর্বনিম্ন ২.৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় রাজধানীসহ সারাদেশে।কিন্তু মঙ্গলবার থেকেই বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা।বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, ৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে, ২৫.৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী দুই দিন পর শীতকালের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বিরাজ করবে।এই দুইদিন তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়তে থাকবে।আগামী এক/দুই দিন বিদ্যমান অবস্থা অব্যাহত থাকলেও ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়বে।তবে ১৩ জানুয়ারি পর থেকে শীতকালের স্বাভাবিক তাপমাত্রা পাওয়া যাবে।

আইসিডিডিআরবিতে গত ছয় দিনে ভর্তি হওয়া ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২৩১ জন।ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে গত ১০ দিনে ভর্তি হয়েছে ৭৬ শিশু।একই সময়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা ৭১ জন।

গত সোমবার থেকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সোমবার শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয় ৮ জন নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু, মঙ্গলবার ৯ জন এবং বুধবার ভর্তি হয় ১৫ জন।

শিশু হাসপাতালের ভর্তি তথ্য অনুযায়ী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়লেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসদের দাবি, অস্বাভাবিক শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও শিশুরোগের প্রকোপ তেমন একটা বাড়েনি। এর কারণ হিসেবে তারা সরকারিভাবে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন বিতরণের সুফলতার কথা বলছেন।

বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ইউনিট ঘুরে দেখা যায়, সেখানে রোগীর চাপ নেই খুব একটা। অনেক বেডই ফাঁকা। শিশু ইউনিটের রোগী ভর্তির রেকর্ড বইয়ে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী বুধবার মাত্র ৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশিরভাগেরই সর্দি-কাশি জাতীয় সমস্যা বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের তথ্যমতে, শীতের শুরু থেকে অর্থাৎ ১ নভেম্বর ২০১৭ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত শীতজনিত রোগে সারাদেশে ৫২ হাজার ৩১২ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে এআরআই (অ্যাবস্ট্রাক্টিভ রিসপারেটরি ইনফেকশন) এ আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ১৩৮ জন।

এ রোগে মৃত্যু ঘটেছে ৫ জনের। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ৭৩৬ জন, এতে মৃত্যু ঘটেছে এক জনের। এছাড়া অন্যান্য রোগ যেমন নিউমোনিয়া, আমাশয়, জ্বর, কাশি ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৩৮ জন। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় এসব রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৬০৬ জন। এর মধ্যে এআরআইয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৯২ জন, ডায়রিয়ায় ৩৫৮ জন ও অন্যান্য রোগে ১৫৬ জন। অধিদফতরের তথ্যমতে, দেশের হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন