শিরোনাম :

তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা


শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

ডেস্ক প্রতিবেদন: সংসারে অভাব অনটন ছিলই। তার উপর মদ্যপ স্বামীর নিত্য-নির্যাতন। কেড়ে নেওয়া হয়েছিল কানের সোনার দুলও। বিয়ের ১৫ বছর পরেও দাম্পত্যে কলহের অবসান হয়নি। অশান্তির জ্বালা সইতে না পেরে তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধূ। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মায়ের। তবে এখনও বেঁচে রয়েছে তাঁর তিন সন্তান। তিন শিশুরই চিকিৎসা চলছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কনুয়া এলাকার রহমতপুর গ্রামে। ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা মৃতার স্বামী। মৃতার বাপের বাড়ির তরফে পুলিশের কাছে অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। শুক্রবার চাঁচোল মহকুমার এসডিপিও সজলকান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। রহমতপুর গ্রামে পুলিশ অফিসাররা গিয়েছেন। তাঁরা সরজমিনে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম রুকসানা বিবি (৩০)। তাঁর বাপের বাড়ি চাঁচোলের বসতপুর গ্রামে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর আগে কনুয়ার রহমতপুর গ্রামের বাসিন্দা আজাদ আলির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। আজাদ পেশায় কৃষি শ্রমিক। তাঁদের দুই মেয়ে, এক ছেলে। বড় মেয়ে আজমিরি খাতুনের বয়স ১০ বছর। তারপর আকতারি খাতুন (৮)। ছোট ছেলে রুকসাত মাত্র ২ বছরের। আজাদ ভিনরাজ্যে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করত। তবে অভিযোগ, ইদানীং আর কাজ করতে বাইরে যেত না সে। বাড়িতে বিড়ি বেঁধে কিছু উপার্জন করতেন রুকসানা।

অভাব অনটনের সংসার। তার উপর আজাদ রোজ মদ্যপান করত বলে অভিযোগ। নিহতের এক ভাই বাবর আলি জানান, অভাব অনটন নিয়ে আজাদের সঙ্গে রুকসানার ঝগড়া হত। মাঝেমধ্যেই সে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য স্ত্রীকে চাপ দিত। কিছুদিন আগেই আজাদ তার স্ত্রী’র কানের সোনার দুলটিও ছিনিয়ে নেয়। তা নিয়ে গ্রামে সালিশিও বসেছিল। সালিশিতে স্বামীকে দোষী সব্যস্ত করা হয়। এরপরও বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলা হত। এমনকী রুকসানাকে সে রোজ মারধরও করত বলেও অভিযোগ নিহতের ভাইয়ের।

বাবর আলি বলেন, ‘গভীর রাতে রহমতপুর গ্রামের বাসিন্দারা ফোন করে আমাদেরকে এই ঘটনার কথা জানান। অশান্তি সহ্য করতে না পেরে আমার দিদি তিন সন্তানকে নিয়ে বিষ পান করেছেন।’ সেই খবর পেয়েই বসতপুর থেকে হাসপাতালে ছুটে যান রুকসানার বাবার বাড়ির লোকজন। চাঁচোল হাসপাতালে রাত ২টো নাগাদ মৃত্যু হয় রুকসানার। ভোর রাতে তাঁর তিন ছেলেমেয়েকে গুরুতর অবস্থায় চাঁচোল থেকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। মালদহ মেডিক্যালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব বিভাগে ওই শিশুদের চিকিৎসা চলছে। এদিন পুলিশ রহমতপুর গ্রামে গিয়ে ঘটনার সরজমিন তদন্ত শুরু করে। তবে আজাদের খোঁজ মেলেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন