শিরোনাম :

ঐশীর বাবা-মা হত্যা: গৃহকর্মী সুমি খালাস


রবিবার, ৬ মে ২০১৮, ০৩:২৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ঐশীর বাবা-মা হত্যা: গৃহকর্মী সুমি খালাস

ডেস্ক প্রতিবেদন: মালিবাগের চামেলীবাগের বাসায় পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় তাদের বাসার গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমিকে (১৬) বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

রোববার (০৬ মে) ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ও শিশু আদালতের বিচারক মো. আল মামুন এ রায় দেন।

উল্লেখ্য, পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর তাদের মেয়ে ঐশী রহমানের মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩। পরে ২০১৭ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট তার দণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ঐশী রহমানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশের আদেশ দিয়েছিলেন ঢাকার তিন নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। মামলার অন্য আসামি ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে খুনের ঘটনার পর ঐশীদের আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে দু’বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও একমাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি ঐশীর বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি খালাস পান।

ওইদিন ট্রাইব্যুনাল রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, সারাদেশ যেখানে শিশু নির্যাতনের বিপক্ষে সোচ্চার সেখানে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে একজন শিশুর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই কঠিন ছিল। আসামিপক্ষ থেকে ঐশীকে শিশু, ঘটনার সময় ঐশী মাতাল ছিল আর হত্যাকাণ্ড ছিল নিছক একটি দুর্ঘটনা এমন দাবি বিচারক নাকচ করে দেন।

তিনি বলেন, আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে ঐশী ১৮ বৎসরের বেশি। ঘটনার সময় সে শিশু ছিল না। আর হত্যাকাণ্ডটি নিছক দুর্ঘটনা ছিল না। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। খুনের আগে সে সময় নিয়েই ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে।

মামলার আসামি গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার অংশের বিচার শিশু আদালতে অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সালের ১ জুন গাজীপুরের কিশোর সংশোধন কেন্দ্র থেকে মা সালমা বেগমের জিম্মায় জামিনে মুক্তি পায় সে।

২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে পুলিশের পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন ঐশী গৃহকর্মী সুমীকে নিয়ে রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন