শিরোনাম :

মুক্তামনির অবস্থা গুরুতর


সোমবার, ২১ মে ২০১৮, ১২:০১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

মুক্তামনির অবস্থা গুরুতর

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার ১২ বছর বয়সী শিশু মুক্তামনির অস্ত্রোপচার করা হাতের অবস্থা গুরুতর বলে তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন জানিয়েছেন।

মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘মুক্তামনির হাতের সংক্রমণ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। ড্রেসিং করার জন্য ব্যান্ডেজ খুললে তার হাত থেকে দুর্গন্ধ আসে। আর ড্রেসিং সম্পন্ন হওয়ার পরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।’

ইব্রাহীম হোসেন আরও বলেন, ‘মুক্তামনির ডান হাত পচে গেছে। আমরা তার আশা ছেড়েই দিয়েছি। এখন একমাত্র আল্লাহ তাকে রক্ষা করতে পারে।’

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন মুক্তামনির বাবা। ‘হাতের ছবি দেখার পরে মুক্তামনির অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন’ যোগ করেন ইব্রাহীম।

এদিকে মুক্তামনির মা আয়েশা খাতুন বলেছেন, ‘চিকিৎসকরা আন্তরিকভাবে মুক্তামনির চিকিৎসা করেছেন। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। এখন মুক্তামনির ভাগ্য সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ওপর নির্ভর করছে।’

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেনের জমজ মেয়েদের একজন মুক্তামনি। তার জমজ হীরামনি সুস্থ থাকলেও দেড় বছর বয়স থেকে হাতে টিউমার শুরু হয় মুক্তামনির।

সাতক্ষীরা, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করালেও সুস্থ হয়নি সে। পরে অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে ফুলে যাওয়া হাতটি গাছের বাকলের (ছাল) মতো হয়ে যায় এবং দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে।

সংবাদমাধ্যমে তার খবর প্রকাশ হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় সরকার। ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অধীনে।

ইতোমধ্যে তার চিকিৎসার বিষয়ে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের মতামত নেওয়া হলে তারা এই অসুখ নিরাময়যোগ্য নয় বলে মত দেয়। বাংলাদেশের চিকিৎসকরা তার বিষয়ে আশা না ছেড়ে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী তার বায়োপসি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

৫ আগস্ট শনিবার সকাল ৮টা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের মেডিকেল বোর্ড মুক্তামনির অস্ত্রোপচার শুরু করে। প্রথম অস্ত্রোপচার শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়।

৮ আগস্ট সকালে মুক্তামনির বায়োপসির রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরে বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিকদের মুক্তামনির চিকিৎসায় গঠিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, বায়োপসি রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, মুক্তামনির রক্তনালিতে টিউমার দেখা দিয়েছে। এই রোগটার নাম ‘হেমানজিওমা’।

বায়োপসির প্রতিবেদন নিয়ে তখন মেডিকেল বোর্ড বসে ১২ আগস্ট শনিবার অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। সে অনুযায়ী গত ১২ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে মুক্তামনির প্রথম দফা এবং গত ২৯ আগস্ট মঙ্গলবার তার দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার করা হয়।

মুক্তামনির দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচারের সময় জ্বরের কারণে ২০ শতাংশ অস্ত্রোপচার শেষে তাকে কেবিনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ৫ সেপ্টেম্বর বাকি অস্ত্রোপচার হয়।

পরে ৮ অক্টোবর রবিবার মুক্তামনির চতুর্থ দফা সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু গত ২১ অক্টোবর শনিবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে মুক্তামনি। চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন মুক্তামনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেন তার চিকিৎসকরা। সেসময় বাড়িতে অবস্থানকালে মুক্তামনি হাতের যত্ন নিতে ড্রেসিং করাতে তার বাবা-মাকে চিকিৎসকরা বলে দিয়েছিলেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন