শিরোনাম :

ঐশীর ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হয়ে উঠার গল্প


মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:২১ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ঐশীর ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হয়ে উঠার গল্প

ঢাকা ও পিরোজপুর: মাটিভাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ থেকে পিরোজপুরের মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী ঐশী এ বছর এইচএসসি পাস করেছেন। ঢাকায় এসেছেন উচ্চশিক্ষার জন্য। গত জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কোচিং শুরু করেন। চোখে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন, তখনই জানতে পারেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮’-এর আবেদন করার খবর। আগে থেকে এই আয়োজনের প্রতি ভালো লাগার কারণে আর দেরি করেননি। পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে আবেদন করেন। নাম নিবন্ধনের পর বাবা-মাকে জানান। বংশের কেউ অভিনয়, নাচ, গান কিংবা মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও বাবা-মা বাধা দেননি, মেয়েকে তারা উৎসাহ দেন।

দেখতে দেখতে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেন। সেরা দশে জায়গা পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। কোচিং করতে এসে একসময় হয়ে যান ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’। ঐশীর গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মাটিভাঙ্গা এলাকায়। বাবা আবদুল হাই সমাজকর্মী আর মা আফরোজা হোসনে আরা স্কুলের শিক্ষক। ঐশীরা দুই বোন। বড় বোনের নাম শশী।

ঐশী বলেন, ‘আমি জানি, বিচারকেরা সবদিক বিবেচনা করে “মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ” নির্বাচিত করেছেন। আমি এই প্রতিযোগিতায় এসে শুরু থেকেই শিখছি। তবে জিতব, এমনটা ভাবিনি। খুব নার্ভাস ছিলাম।’

এ বছর ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হয়েছেন ঐশী। চীনের সানাইয়া শহরে ৭ ডিসেম্বর ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন তিনি। ঐশী বললেন, ‘গত বছর “মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ” দেখে মনে হয়েছে, অন্য সুন্দরী প্রতিযোগিতাগুলো থেকে এটি আলাদা। বয়সের কারণে অংশ নিতে পারিনি। যেহেতু এই আয়োজন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছার সুযোগ করে দেয়, তাই ইচ্ছে ছিল। যখন দেখলাম নিবন্ধন শুরু হয়ে গেছে, তখন যুক্ত হয়ে যাই। নিবন্ধনের পর নির্বাচিত হই। এখন আমি এমন কিছু করতে চাই, যাতে সবার উপকার হয়। অসহায় মানুষদের জন্য কিছু করতে চাই, অবশ্যই সেরাদের একজন হতে চাই। ভালো কাজ করতে চাই। মানুষের ভালোবাসা পাব, এমন কিছু করতে চাই সব সময়।’

গত রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির রাজদর্শন হলে আয়োজন করা হয় ‘ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল। বিচারক আসনে ছিলেন শুভ্র দেব, খালেদ সুজন, ইমি ও ব্যারিস্টার ফারাবী। তাঁদের সঙ্গে ‘আইকন বিচারক’ হিসেবে ছিলেন মাইলস ব্যান্ডের শাফিন আহমেদ ও হামিন আহমেদ এবং নৃত্যশিল্পী আনিসুল ইসলাম হিরু।

অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী প্রথম আলোকে আগেই বলেছেন, ‘যিনি এবার সেরা হবেন, তাঁকে মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হবে। ভারতের নয়নিকা চ্যাটার্জির সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের এই প্রশিক্ষক দিল্লিতে আছেন। তিনি দুই মাসের জন্য ঢাকায় আসবেন। পুরো সময়টাতেই তিনি “মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ”কে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেবেন।’

এবার ‘ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় ‘মিস ট্রেন্ডি’ পুরস্কার জিতেছেন স্মিতা টুম্পা। এ ছাড়া ‘বেস্ট বিহেভিয়র’ পুরস্কার আফরিন সুলতানা, ‘মিস ইন্টেলিজেন্ট’ পুরস্কার নিশাত নাওয়ার, ‘মিস স্মাইলি’ পুরস্কার সুমনা নাথ অনন্যা, ‘মিস ফটোজেনিক’ পুরস্কার জান্নাতুল মাওয়া, ‘মিস ট্যালেন্টেড’ পুরস্কার নাজিবা বুশরা, ‘মিস পারসোনালিটি’ পুরস্কার শিরিন শিলা, ‘মিস স্পোর্টি’ পুরস্কার পেয়েছেন ইশরাত জাহান সাবরিন। ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হওয়ার পাশাপাশি ‘বেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স’ পুরস্কারও পেয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।

‘ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন আজরা মাহমুদ, সনিকা ও নিরব।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন