শিরোনাম :

নারীচালিত নারীদের ট্যাক্সি


বুধবার, ৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

নারীচালিত নারীদের ট্যাক্সি

ডেস্ক: মালিক মহিলা, চালক মহিলা, যাত্রীও সেই মহিলা। মহিলা যাত্রীর সুরক্ষার কথা ভেবে কলকাতার পথে এ বার চালু হচ্ছে ‘পিঙ্ক ট্যাক্সি’। প্রবীণ পুরুষরা অবশ্য এতে চড়তে পারবেন। তবে এর বাইরে অন্য কেউ উঠবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত মহিলা চালকই নেবেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্য পরিবহণ দপ্তর গতিধারা প্রকল্পের মাধ্যমে এই বিশেষ ট্যাক্সি চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে। খুব শীঘ্রই বিজ্ঞাপন দিয়ে আবেদন চাওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী চলতি আর্থিক বছরেই পরীক্ষামূলক ভাবে অন্তত ৫০টি পিঙ্ক ট্যাক্সি কলকাতায় চালু করতে চান। উপযুক্ত আবেদনকারী পেলে সংখ্যাটা বাড়তেও পারে।

বিদেশে এই পিঙ্ক ট্যাক্সির চল থাকলেও বেঙ্গালুরুতে পিঙ্ক অ্যাপ ক্যাব চালু রয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের উপস্থিতি পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে বাড়ছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিফটে মহিলা কর্মীরা কাজ করছেন। এঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই পিঙ্ক ট্যাক্সির ভাবনা। কলকাতার মতো জনবহুল শহরে ট্যাক্সি নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ ওঠে। অভিযোগমুক্ত নয় অ্যাপ ক্যাবও। বহু সময়ই মহিলা যাত্রীরা একা ট্যাক্সি বা ক্যাবে উঠে নানা হেনস্থার শিকার হন। নিগ্রহের ঘটনাও ঘটে। পিঙ্ক ট্যাক্সি পথে থাকলে এই ধরনের অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি মহিলাদের পরিবহণ ব্যবসায় উপার্জনক্ষম করতে এই স্বনির্ভর প্রকল্প কার্যকরী ভূমিকা নেবে।

গতিধারা প্রকল্পে পিঙ্ক ট্যাক্সি কেনার জন্য আবেদনকারী মহিলার বয়স হতে হবে ২০ থেকে ৪৫ বছর। তফসিলি জাতি-উপজাতিদের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় পাঁচ বছর অতিরিক্ত ছাড় থাকবে। আবেদনকারীর পারিবারিক বার্ষিক আয় ২৫ হাজার টাকা হতে হবে। আবেদনকারীর নাম এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্কে নথিভুক্ত থাকতে হবে। এই ট্যাক্সি কেনার জন্য গতিধারা প্রকল্পর নিয়ম মেনেই এক লক্ষ টাকা ভর্তুকি দেবে রাজ্য সরকার। গাড়িটি ওপরে থাকবে পিঙ্ক রং। অর্থাৎ হলুদ-কালো ট্যাক্সির আদলেই পিঙ্কের সঙ্গে অন্য যে কোনও রং থাকবে এই মহিলা পরিচালিত ট্যাক্সিতে। পিঙ্ক গাড়ি নিয়ে অ্যাপ ক্যাবও চালাতে পারবেন মহিলারা।

২০১৪ সালে আগস্টে চালু হওয়া গতিধারা প্রকল্পটি প্রথমে শ্রম দপ্তরের অধীনে ছিল। কিন্তু সাফল্য না-আসায় মুখ্যমন্ত্রী এটি রূপায়ণের দায়িত্ব তুলে দেয় পরিবহণ দপ্তরের হাতে। প্রতিবছরই এই প্রকল্প লক্ষ্যমাত্রা পূরণই করছে। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার বেকার ছেলেমেয়ে এই প্রকল্পের সাহায্য পেয়েছে। যদিও লক্ষ্যমাত্রা ছিল দশ হাজার।

লেখক: সুগত বন্দ্যোপাধ্যায়
এই সময়।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন